নাটোরের বড়াইগ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের শিবপুর এবং কলোনী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুই দিনে এসব সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালীন একটি ট্রাকে ভাঙচুর ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ, ডিবি ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৯ মে ঈদের পরদিন গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে গোপালপুর মৃধাপাড়া এলাকার আবির হোসেনের সাথে শিবপুর গ্রামের সজিব হোসেনসহ কয়েকজন যুবকের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।গত শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যায় সজীব শিবপুর বাজারে গেলে আবির ও তার স্বজনরা তাকে মারপিট করে। এ সময় শিবপুর বাজারের ব্যবসায়ী আবু হানিফ ও নাজমুল মারপিট থামাতে এগিয়ে গেলে গোপাপুল কলোনীর আবিরের স্বজনরা তাদেরকেও মারপিট করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে পাশের গড়মাটি কলোনী থেকে তাদের স্বজনরা জগো হয়ে শিবপুর বাজারে আসে। এ সময় গড়মাটি কলোনীর লোকজনের সাথে গোপালপুর কলোনীর লোকজনের ধাওয়া পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এর পরপরই শিবপুর ও কলোনির বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়। প্রথম দিনের এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হন।
প্রাথমিক সংঘর্ষের পর আজ সকালে নতুন করে আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকালের দিকে নিশাদ নামে কলোনির এক ভ্যানচালক শিবপুর আড়তে ধান দিতে গেলে শিবপুর ও নারায়ণপুর এলাকার লোকজন তাকে আটক করে মারধর করে।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষই মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। এ সময় কলোনি এলাকার সোহেল নামে এক ব্যক্তির ট্রাকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় এবং চালকের কাছে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আজকের এই দ্বিতীয় দফার সংঘাত ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আরও ৩ জন আহত হন।
দুই দিনে আহত মোট ১০ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। খবর পেয়ে বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ এবং র্যাব সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
পড়ুন- আদ-দ্বীনে ৬ শিশুর মৃত্যু: এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট


