বিজ্ঞাপন

পাবনায় স্কুলছাত্রী রিয়া হত্যার প্রতিবাদে বিচার চেয়ে রাজপথে সহপাঠীরা, প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার

​পাবনার পদ্মা নদী থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী রিয়া খাতুন (১৪) হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাবনা। ঘাতকদের ফাঁসির দাবিতে দুপুরে পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সহপাঠী ও এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

​রবিবার (৭ জুন) দুপুরে পাবনা সদর উপজেলার জালালপুর এলাকায় পাবনা-ঢাকা মহাসড়কে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে মাওলানা কাসিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নিহত রিয়ার সহপাঠী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শত শত শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সর্বস্তরের জনসাধারণ ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে অংশ নেন।

​মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের সহপাঠী ও শিক্ষকরা। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রিয়াকে যেভাবে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ মানুষ করতে পারে না। আমরা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা নাঈম ও তার সহযোগীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে বক্তারা দেশে চলমান বিভিন্ন ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনার সাথে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

​বিক্ষোভ চলাকালে পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের দুপাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে বেশ কিছু সময় যানবাহন চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হলে শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সদর উপজেলার পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের বাসিন্দা নাঈমের সঙ্গে স্কুলছাত্রী রিয়ার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই-বোন। গত মঙ্গলবার (২ জুন) বেলা ১১টার দিকে রিয়া নাঈমের বাসায় বেড়াতে যায়। সেখানে অবস্থানকালে একপর্যায়ে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে নাঈম ধারালো ছুরি দেখিয়ে রিয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করে। রিয়া এতে ভয় না পেয়ে উল্টো প্রতিহত করতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে নাঈম তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

​হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে নাঈম তার দুই সহযোগী ইয়াসিন ও তুহিনকে ডেকে আনে। এরপর তারা অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় রিয়ার মরদেহ বস্তাবন্দি করে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে তুলে পদ্মা নদীর তীরে নিয়ে ফেলে আসে। পরবর্তীতে পুলিশ নদী থেকে বস্তাবন্দি মরদেহটি উদ্ধার করে।

​এই ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, পুলিশ যেন মামলার তদন্ত সুচারুভাবে শেষ করে দ্রুততম সময়ে চার্জশিট দাখিল করে, যাতে অপরাধীরা কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে না যায়।

পড়ুন- আদ্-দ্বীনে মারা যাওয়া প্রতি শিশুর পরিবার পাবে ৮০ লাখ টাকা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন