বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের প্রতিবাদে বিক্ষোভে নামল ভারতীয় গ্রামবাসী

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে ঘিরে নতুন করে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের একটি সীমান্তবর্তী গ্রামে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্তমানে যে স্থানে বেড়া নির্মাণের কাজ চলছে, তা শেষ হলে পুরো গ্রামই কার্যত নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে চলে যাবে এবং দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এ কারণে কাজ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন গ্রামবাসীরা।

সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু বলছে, মেঘালয় রাজ্যের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একটি গ্রামের বাসিন্দারা রোববার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। তাদের দাবি, সীমান্তের শূন্যরেখা (জিরো লাইন) বরাবর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে হবে, অন্যথায় তারা দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন।

মেঘালয়ের পূর্ব খাসি হিলস জেলার লিংখং গ্রামটি প্রায় শূন্যরেখার ওপরই অবস্থিত। এই গ্রামের বাড়িঘর বাংলাদেশের একটি বসতি থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরেই অবস্থিত। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে অন্তত ১৫০ গজ দূরে বেড়া নির্মাণ করতে হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, কোভিড-১৯ মহামারির সময় গ্রামবাসীরা বাঁশের একটি বেড়া নির্মাণ করে বাংলাদেশ ও গ্রামের মধ্যে আলাদা সীমারেখা তৈরি করেছিলেন। এরপর থেকে পরিস্থিতিতে তেমন কোনও পরিবর্তন হয়নি।

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিরুদ্ধে রোববার গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন এবং পাইনুরসলার উপ-বিভাগীয় কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে চলমান বেড়া নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান। গ্রামপ্রধান রামু বার্তাসংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘আমরা সীমান্তে বেড়া নির্মাণের বিরোধী নই। তবে আমরা চাই, বেড়াটি শূন্যরেখা বরাবর নির্মাণ করা হোক, যাতে আমাদের গ্রাম ভারতের ভেতরে এবং বেড়ার সুরক্ষা বেষ্টনীর মধ্যেই থাকে।’

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী বেড়া নির্মাণ করা হলে লিংখং গ্রামটি নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে থেকে যাবে। এতে যাতায়াত, নিরাপত্তা এবং গ্রামের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা রিমা খংসদির বলেন, ‘বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী বেড়া নির্মাণ করা হলে আমাদের গ্রাম বেষ্টনীর বাইরে পড়ে যাবে। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। রাজ্য সরকার যেন আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং ভারত সরকারের কাছে তুলে ধরে, সেটাই আমরা চাই।’

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তকে আরও সুরক্ষিত করার অংশ হিসেবে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে মেঘালয়ের সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪৪৪ কিলোমিটার। স্থানীয় নানা সমস্যা এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে এই ৪৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে ৮০ কিলোমিটারেরও কম অংশে এখনও বেড়া নির্মাণ করা হয়নি।

সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, গ্রামবাসীদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে লিংখং গ্রামে ইতোমধ্যে একটি চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গ্রামটিতে বিএসএফের উপস্থিতি রয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : চুয়াডাঙ্গায় ১৬ কেজি গাঁজাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন