জয়পুরহাটের কালাইয়ে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই প্যানেলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক প্যানেলের প্রার্থীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- প্রার্থী শেখ শাহাঙ্গীর আলম এবং তার সমর্থক শেখ হাবিবুর রহমান, মিথন মন্ডল, ইউসুফ আলী। অপর প্যানেলের আহতরা হলেন- সাদিক হোসেন, মুনছুর রহমান, জুয়েল রানা, রশিদুল ইসলাম ও রানা মিয়া। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ৪ জন অভিভাবক সদস্য নির্ধারণের জন্য এই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। নির্বাচনে আনিছুর রহমান ও শেখ শাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে দুটি প্যানেলে ৮ জন এবং স্বতন্ত্র একজনসহ মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সকাল ৯টা থেকে ৩৪০ জন ভোটারের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে লাইনে দাঁড়ানো এক ভোটারের সাথে কথা বলাকে কেন্দ্র করে দুই প্যানেলের সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাঁধে। খবর পেয়ে কালাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার তরিকুল ইসলাম বলেন, ভোটকেন্দ্রের বাইরে মারপিটের ঘটনা ঘটলেও আমরা ভেতরে ভোট গ্রহণ বন্ধ করিনি। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর ভোট গ্রহণ শেষে যথানিয়মে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামিম আরা।জানান, মারামারির খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে পরিবেশ শান্ত করা হয়। নির্বাচনী কর্মকর্তারা ফলাফল প্রকাশ করে উপজেলায় ফিরে এসেছেন। মারপিটের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ বা মামলা করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

