কয়েকদফায় পরস্পরের ওপর হামলার পর ইরান ও ইসরায়েল জানিয়েছে, আপাতত তারা পরস্পরের ওপর হামলা চালাবে না। তবে আবার হামলার শিকার হলে জোরালো জবাব দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। অন্যদিকে লেবানন বা হিজবুল্লাহর ওপর হামলা হলে আবারও ইসরায়েলে হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এর আগে ইসরায়েল ও ইরানকে অবিলম্বে পরস্পরের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে বলে জানিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ইসরায়েল আপাতত ইরানের ওপর হামলা চালানো বন্ধ রাখবে বলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন। টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে তিনি দাবি করেন, ইরান ও হিজবুল্লাহ আগের চেয়ে অনেক দুর্বল হয়ে গেছে।
তবে তিনি এটিও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তাদের (ইরান ও হিজবুল্লাহ) সঙ্গে লড়াই এখনও শেষ হয়ে যায়নি। নেতানিয়াহু বলেন, ইরান থেকে যদি ইসরায়েলের ওপর আরেও হামলা চালানো হয়, তবে তার সরকার জোরালো জবাব দেবে।
একইসঙ্গে নিজেদের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ প্রয়োগ করবে ইসরায়েল। নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার ফোনালাপের কথাও উল্লেখ করেন। গত রোববার হামলা শুরু হওয়ার পর ট্রাম্পের সাথে তার কয়েক দফায় কথা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে ইসরায়েলের ওপর হামলা বন্ধের ঘোষণা দেয় ইরানও। দেশটির সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর সোমবার (৮ জুন) এ ঘোষণা দেয়। অবশ্য ইসরায়েলি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করেছে ইসরায়েল।
এর আগে গত রোববার রাতে ও সোমবার দেশ দুটি দিনভর পাল্টাপাল্টি একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এদিন ইসরায়েলের হাইফা পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে হামলা চালানোর কথা জানায় ইরান।
দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে ইসরায়েলের হামলার জবাবে এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে ‘নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টির’ কারণে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউয়ের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এ কথা জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স এ দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘শান্তি আলোচনা এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির চক্রে আটকে আছে মধ্যপ্রাচ্য। হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের ড্রোনগুলো সামুদ্রিক চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মন্ত্রীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানের এই পদক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
কাজা কালাস আরও বলেন, ‘এর জবাবে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টির জন্য ব্রাসেলসে ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলো আজ ইরানিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে’। তিনি জানান, নৌযান চলাচলে বাধা দেয়ার সঙ্গে জড়িত ইরানি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর ইইউ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

