নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলের ৩০ নং সেক্টর ও এর আশপাশের গ্রাম পলখান, জিন্দা, উলুপ,বইলদাসহ কামতা মৌজায় জমি না কিনেই ছোঁয়া রিসোর্ট ও মেগা বিল্ডার্সের নামে অবৈধ সাইনবোর্ড, ব্যানার দিয়ে নিরীহ জমি মালিক ও জনমনে আতঙ্ক তৈরীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, রাজউকের সরকারী সম্পত্তির উপর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে গ্রাহকদের বিনিয়োগে মার্কেটিং,প্লট বিক্রি ও অবৈধ ল্যান্ড বুকিং নেয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পূর্বাচলের ৩০ নাম্বার সেক্টর এলাকার কামতা মৌজায় ছোঁয়া রিসোর্ট ও মেগা বিল্ডার্সের নামে অবৈধভাবে জমি ক্রয় না করেই সাইনবোর্ড সাঁটিয়েছেন একটি ভূমিদস্যু চক্র। স্থানীয় জমি মালিকদের দেয়া তথ্যে জানা যায়, জনৈক মুরাদ হোসেন চৌধুরী বিগত সরকারের সময়ে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রভাব খাঁটিয়ে কামতা, রাথুরা, হানকুর,মাধবপুর, ভায়াসূতি, তীরমারা,উলুপ এলাকায় আবাসন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করতে স্থানীয় জবরদখলকারী সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটকে ম্যানেজ করে জমি ক্রয় না করেই সাইনবোর্ড বসায়। এরপর থেকে সরকারী খাস ও অর্পিত,রাজউকের জমিকে টার্গেট করে তাদের জবর দখল তান্ডব চলে আসছিলো।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পরবর্তী মুরাদগং গা ঢাকা দিলেও সম্প্রতি পুরাতন জবরদখলকারী আওয়ামীলীগের অঙ্গসহযোগী সংগঠন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা জামাল মোল্লাগং ছাত্রহত্যাকান্ডে আসামী কারাবাস থেকে মুক্ত হয়ে নতুন করে জবরদখলে মেতেছেন। সম্প্রতি স্থানীয় বিএনপির কতিপয় নেতা কর্মীকে অংশিদার ঘোষণা করে ফের জবর দখল, সাইনবোর্ড সাঁটানোর কাজ চলমান রাখে। একই সময় একই চক্র ছোঁয়া রিসোর্টের নামেও রাজউকের জমি ব্যবহার করে কামতা মৌজাকে টার্গেট করে। তারা প্রদর্শিত স্থানে সাইনবোর্ড সাঁটায়। এতে জমি মালিকরা চরম আতণ্কে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, শুধুমাত্র সাইনবোর্ড পাহাড়া দিয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি থেকে কতিপয় সন্ত্রাসী, জবরদখলকারী চক্র মাসোহারা হিসেবে ৪০ লক্ষ পায়। এসব টাকা নিয়ে জমি মালিকদের ভয় ভীতি দেখাচ্ছে আর গড়ে তুলেছে অস্ত্রধারী কিশোরগ্যাং চক্র। রয়েছে মাদকের সাম্রাজ্য । পাশাপাশি জমির উপর বালি ফেলে দখলে নিয়ে তা ভুয়া দাতা দিয়ে বিক্রির হুমকী দিচ্ছে। এতে প্রকৃত জমি মালিকরা ভয়ে ও প্রাণনাশের হুমকী নিয়ে বসবাস করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন, এসব কোম্পানি এক শতাংশ জমিও কারও কাছ থেকে ক্রয় করেনি। অথচ শতাধিক সাইনবোর্ড দিয়ে তারা বুঝাতে চাচ্ছে জমির মালিক কোম্পানি। এটা নিছক প্রতারণা।
একই এলাকার অপর বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, আমরা জমি মালিকরা ভূমিদস্যুতার কাছে জিম্মি হয়ে গেছি। মুরাদ হোসেন চৌধুরী নামীয় ব্যক্তি পলখানে বটতলায় অফিস খুলে এলাকায় মানুষ এবং অনলাইনে প্রতারণা করে বহু লোকের কাছ থেকে প্লট বিক্রির নামে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গ্রাহকরা এতোদিন বুঝতে না পারলেও সম্প্রতি তারা মুখ খুলতে শুরু করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
মাশরীকি জুট মিলসের কর্মকর্তা জানান,তিনি এবং তার বন্ধু মহল তাদের জীবনের সর্বস্ব পূঁজি দিয়ে মেগাসিটি নামীয় প্রতিষ্ঠানে ৪ টি প্লটে ১ কোটি টাকা বুকিং দেয়া হয়। এতোদিন প্লট বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও কথিত প্রকল্প এলাকায় গিয়ে জানতে পারেন তাদের নামে জমি ক্রয় করাই হয়নি।
এসব বিষয়ে অভিযুক্ত মুরাদ হোসেন চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ভায়াসুতি মৌজাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে জমি ক্রয় করেছি। আরও জমি ক্রয় চেষ্টা চলছে।
এসব বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেল ফরিদ আল সোহান বলেন, যে কোন অবৈধ দখলদার ও সাইনবোর্ড ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে প্রশাসন তৎপর। জমি মালিক ও কৃষকরা অভিযোগ করলেই ব্যবস্থা নেব।
এসব বিষয়ে কথা হলে রাজউকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সাদিক শুভ বলেন, পূর্বাচলের সরকারী জমি কোন দখলদার বা সাইনবোর্ড ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
পড়ুন- সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত: আপিল বিভাগ


