বিবেকানন্দ থিয়েটারের ২৫তম প্রযোজনা ‘ভাসানে উজান’-এর ৯ম প্রদর্শনী ১০ জুন বুধবার মঞ্চায়িত হবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে। দস্তয়ভস্কির বিখ্যাত ছোটগল্প দ্য জেন্টেল স্পিরিট অবলম্বনে নির্মিত নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন অপূর্ব কুমার কুণ্ডু এবং নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময়। একক এ নাটকে অভিনয় করেছেন সময়ের আলোচিত অভিনেতা মো. এরশাদ হাসান। নাটকটির অভিনয়-ভাবনা, একক অভিনয়ের চ্যালেঞ্জ, দীর্ঘ দুই দশকের নাট্যচর্চা এবং সমসাময়িক নাট্যভাবনা নিয়ে নাগরিক টিভি অনলাইনের সাথে কথা বলেছেন তিনি।
প্রশ্ন: একক নাটকে অভিনয় করা কতটা কঠিন?
এরশাদ হাসান: একক নাটকে অভিনেতাই মূল ভরকেন্দ্র। মঞ্চে আপনার সঙ্গে আর কোনো চরিত্র নেই, তাই পুরো সময় দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখতে হয়। শারীরিক ও মানসিকভাবে এটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে এই চ্যালেঞ্জই আমাকে আকৃষ্ট করেছে।
প্রশ্ন: নাটকটির কোন দিকটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি টানে?
এরশাদ হাসান: মানুষের নীরবতা এবং ভেতরের একাকিত্বের বিষয়টি। আমরা অনেক সময় কথা বলি, কিন্তু আমাদের গভীর অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে পারি না। নাটকটি সেই অপ্রকাশিত অনুভূতির গল্প বলে।

প্রশ্ন: দীর্ঘদিন ধরে মঞ্চে কাজ করছেন। ‘ভাসানে উজান’ আপনার অভিনয়জীবনে কী ধরনের গুরুত্ব বহন করে?
এরশাদ হাসান: আমার অভিনয়জীবনের একটি বিশেষ মাইলফলক হিসেবে আমি নাটকটিকে দেখি। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে নিজেকে নতুনভাবে পরীক্ষা করার সুযোগ পেয়েছি। একজন অভিনেতা হিসেবে আমার সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা—দুটোকেই নতুনভাবে চিনতে সাহায্য করেছে এই নাটক।
প্রশ্ন: ‘ভাসানে উজান’ নাটকের নবম প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে। কেমন লাগছে?
এরশাদ হাসান: খুব ভালো লাগছে। একটি নাটকের ধারাবাহিক প্রদর্শনী মানে দর্শকের গ্রহণযোগ্যতা। ‘ভাসানে উজান’ প্রতিটি প্রদর্শনীতেই দর্শকদের কাছ থেকে আন্তরিক সাড়া পেয়েছে। নবম প্রদর্শনীতে এসে মনে হচ্ছে নাটকটি ধীরে ধীরে আরও পরিণত হয়ে উঠছে।
প্রশ্ন: দস্তয়ভস্কির ‘দ্য জেন্টেল স্পিরিট’ অবলম্বনে নির্মিত এই নাটকে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
এরশাদ হাসান: দস্তয়ভস্কির লেখা সবসময়ই গভীর মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধানের জায়গা তৈরি করে। তাঁর চরিত্রগুলো জটিল, দ্বন্দ্বপূর্ণ এবং মানবিক। সেই জগতকে মঞ্চে ধারণ করা একজন অভিনেতার জন্য যেমন চ্যালেঞ্জের, তেমনি আনন্দেরও। ‘ভাসানে উজান’ আমাকে চরিত্রের গভীরে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছে।
প্রশ্ন: দর্শকদের প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন?
এরশাদ হাসান: সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, দর্শকরা নাটকটি নিয়ে ভাবেন। অনেকেই প্রদর্শনী শেষে এসে তাঁদের অনুভূতির কথা বলেন। কেউ চরিত্রটির একাকিত্ব অনুভব করেন, কেউবা নিজের জীবনের সঙ্গে মিল খুঁজে পান। এই সংযোগটাই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
প্রশ্ন: নির্দেশক শুভাশীষ দত্ত তন্ময়ের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
এরশাদ হাসান: তিনি অত্যন্ত মনোযোগী এবং অনুসন্ধানী একজন নির্দেশক। নাটকের প্রতিটি মুহূর্ত নিয়ে তাঁর ভাবনা রয়েছে। তাঁর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমিও চরিত্র ও নাটককে নতুন দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ পেয়েছি।
প্রশ্ন: বর্তমান সময়ে বাংলা নাটকের অবস্থানকে কীভাবে দেখছেন?
এরশাদ হাসান: নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলা নাটক এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা ভালো কাজ করছেন। দর্শকদের আগ্রহও বাড়ছে। আমি বিশ্বাস করি, নিয়মিত চর্চা ও মানসম্মত প্রযোজনার মাধ্যমে আমাদের নাট্যাঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হবে।
প্রশ্ন: ‘ভাসানে উজান’-এর নবম প্রদর্শনী উপলক্ষে দর্শকদের জন্য আপনার বার্তা কী?
এরশাদ হাসান: আমি সবাইকে নাটকটি দেখার আমন্ত্রণ জানাই। এটি শুধু একটি নাটক নয়, বরং মানুষের ভেতরের নীরবতা, ভালোবাসা, অপরাধবোধ এবং আত্মঅনুসন্ধানের একটি যাত্রা। আশা করি দর্শকরা নিজেদের সঙ্গে নতুন করে সংলাপের একটি সুযোগ খুঁজে পাবেন।


