কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ার সমালোচনার মধ্যে সফটওয়্যার উন্নত করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলনে নতুন সুবিধার পাশাপাশি পুরোনো সমস্যার সমাধানেও জোর দেওয়া হয়েছে।
সম্মেলনের শুরুতেই অ্যাপল দেখিয়েছে, ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা ভালো করাই এখন তাদের বড় লক্ষ্য। সফটওয়্যার বিভাগের প্রধান ক্রেইগ ফেদেরিগি বলেন, বড় পরিবর্তনের পাশাপাশি ছোট ছোট বিষয়েও উন্নতি আনা হচ্ছে।
গত কয়েক বছরে অ্যাপলের সফটওয়্যার নিয়ে ব্যবহারকারীদের নানা অভিযোগ ছিল। নতুন নকশা, তথ্য খোঁজার সুবিধা এবং ফাইল পাঠানোর ব্যবস্থায় সমস্যা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।
এবার অ্যাপল প্রথমে এসব সমস্যার সমাধানের বিষয় তুলে ধরে। এরপর আনা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন সুবিধা। অ্যাপলের নতুন নকশা ‘লিকুইড গ্লাস’ নিয়েও ব্যবহারকারীদের আপত্তি ছিল। কাচের মতো স্বচ্ছ এই নকশায় অনেকের লেখা পড়তে সমস্যা হচ্ছিল।
অ্যাপল এবার ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন নিয়ন্ত্রণ সুবিধা দিচ্ছে। এর মাধ্যমে নকশার স্বচ্ছতা কমানো যাবে। চাইলে আগের মতো বেশি স্পষ্ট চেহারাও বেছে নেওয়া যাবে। এ ছাড়া কম্পিউটারের টুলবারে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। অ্যাপের চিহ্নগুলো আরও পরিষ্কার করা হচ্ছে।
অ্যাপলের দাবি, নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারে বিভিন্ন কাজের গতি বাড়বে। আইফোন ও আইপ্যাডে অ্যাপ চালু হবে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত দ্রুত। ছবি দেখানোর গতি বাড়বে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত। ফাইল পাঠানোর গতিও বাড়বে।
পুরোনো ব্যবহারকারীদের কথাও বিবেচনায় নিয়েছে অ্যাপল। ২০১৯ সালে বাজারে আসা আইফোন ১১ মডেল থেকেও নতুন কর্মক্ষমতার সুবিধা পাওয়া যাবে।
তথ্য খোঁজার ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। অ্যাপল জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত খুঁজে পাওয়া যাবে। ই-মেইলেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আগে দেখানোর সুবিধা আসছে।
স্বাস্থ্য অ্যাপেও নতুন সুবিধা যুক্ত হয়েছে। নারীদের বিশেষ স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুবিধা যোগ করা হয়েছে। সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল উন্নত সিরি। অ্যাপলের কণ্ঠসেবা সিরি এখন ব্যবহারকারীর কথার অর্থ আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবে।
নতুন সিরি শুধু প্রশ্নের উত্তর দেবে না। বিভিন্ন কাজেও সাহায্য করবে। তবে সুবিধাটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে এটি চালু হতে পারে।
অ্যাপল জানিয়েছে, তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ওয়েবসাইট বিশ্লেষণ, তথ্য খোঁজা এবং দৈনন্দিন কাজ সহজ করতে ব্যবহার করা হবে।
বার্তা আদান–প্রদানের সময় কথার প্রসঙ্গ বুঝে উত্তর দেওয়ার পরামর্শও দিতে পারবে নতুন ব্যবস্থা। ছবি তৈরির সুবিধাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন আরও প্রয়োজনীয় ও ব্যবহারযোগ্য ছবি তৈরি করা যাবে। ছবির অপ্রয়োজনীয় অংশ সরানো এবং ছবি পরিবর্তনের সুবিধাও যোগ হচ্ছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে গুগল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অ্যাপল কিছুটা পিছিয়ে ছিল। এবারের উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের আস্থাও ধরে রাখতে চাইছে অ্যাপল।
পড়ুন:ব্যাংক থেকে বড় ঋণ নেবে সরকার
দেখুন:‘দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ে
ইমি/


