ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর অংশে ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল নিয়ে সংবাদ প্রচারের পরদিনই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে গাজীপুর জেলা ট্রাফিক বিভাগ। মঙ্গলবার (৯ জুন) চন্দ্রা, সফিপুর, কালিয়াকৈর ও মৌচাক এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে মোট ৫৫টি মামলা দায়ের করা হয় এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
গাজীপুর জেলা ট্রাফিক বিভাগের টিআই (প্রশাসন) হামিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনটি পুলিশ সুপার, গাজীপুর বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ই-প্রসিকিউশনের মাধ্যমে পরিচালিত অভিযানে মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ১৯টি, বাসের বিরুদ্ধে ১২টি, ট্রাকের বিরুদ্ধে ৯টি, কাভার্ড ভ্যানের বিরুদ্ধে ৩টি, পিকআপের বিরুদ্ধে ৫টি, প্রাইভেটকারের বিরুদ্ধে ১টি, মাইক্রোবাসের বিরুদ্ধে ১টি সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
ট্রাফিক বিভাগের সূত্র জানায়, যানবাহনের কাগজপত্র, ফিটনেস সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও অন্যান্য আইনগত বিষয় যাচাইয়ের সময় বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে টিআই (প্রশাসন) হামিদুজ্জামান বলেন, “মহাসড়কে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মোটরযান আইনের আওতায় অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আদায়কৃত জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অনেকেই মনে করছেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি তদারকি নিশ্চিত করা গেলে ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের চলাচল অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, ৮ জুন নাগরিক টেলিভিশনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর অংশে ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল নিয়ে একটি সংবাদ প্রচারিত হয়। এরপরই ট্রাফিক বিভাগের এ অভিযান স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের আশা, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও আইন প্রয়োগ কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।


