দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (২০ বিজিবি) ও র্যাবের এক যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, চোরাই পথে আসা ভারতীয় জিরা, পাকিস্তানি আমলের পুরাতন মুদ্রা এবং নগদ ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকারও বেশি টাকাসহ দুই চোরাকারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত মধ্যরাতে নবাবগঞ্জ থানাধীন ৫নং ভাদুরিয়া ইউনিয়নের দিঘীরত্নী এলাকায় এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এই ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মামলা নম্বর-১১।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন- মোঃ জামাল হোসেন (৩৮), পিতা-মৃত আনছার আলী, মোঃ গোলাম আজম (২৭), পিতা-মোঃ আনিছ আলী। তারা উভয়েই দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার দিঘীরত্নী গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযান পরিচালনাকারী দল সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আসামিদের দেহ ও বাড়ি তল্লাশি করে নিম্নলিখিত আলামতসমূহ জব্দ করে:
১০০ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট (১০০ মিলিগ্রাম), যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫,০০০ টাকা। আসামি জামাল হোসেনের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত মাদক বিক্রির নগদ ১,৬৫,২১২/- (এক লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার দুইশত বারো) টাকা। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ৩ কেজি ভারতীয় জিরা (ব্র্যান্ড: ইরানি অমৃত স্পেশাল জিরা ও মহারাজ কাকা জিরা), যার আনুমানিক মূল্য ৩,০০০ টাকা। পাকিস্তানি আমলের ১০ পয়সার ২১০টি পুরাতন কয়েন। চোরাচালানে ব্যবহৃত ৫টি পুরাতন অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট (Redmi, Vivo, Samsung, Infinix, Tecno), যার আনুমানিক মূল্য ৭৫,০০০ টাকা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি) এর অধিনায়ক মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বিজিবি-র একটি বিশেষ টহলদল এবং র্যাব-১৩, সিপিএসসি-১, দিনাজপুরের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিঘীরত্নী এলাকায় যৌথ অভিযানে যায়। রাত আনুমানিক ১২.০৫ ঘটিকায় আসামিদের বাড়ির সামনে পৌঁছালে তারা যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় টহলদলের সদস্যরা ধাওয়া করে আসামিদের বাড়ির সামনের গলি থেকে তাদের হাতেনাতে আটক করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের সহায়তায় সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে এনে বিক্রি করাসহ অবৈধ মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিল। উদ্ধারকৃত ভারতীয় জিরা ও পাকিস্তানি আমলের পুরাতন মুদ্রা সংরক্ষণের কোনো বৈধ কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেনি।
আসামি জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) এর ২৯(ক)/৪১ ধারা এবং আসামি গোলাম আজমের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের অপরাধে The Special Powers Act, 1974 এর 25B(1)(b)/25D ধারা অনুযায়ী নিয়মিত মামলা রুজু করে তাদের থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
পড়ুন : জামালপুর সীমান্তে পুশইন ঘিরে উত্তেজনা, পতাকা বৈঠকেও মিলল না সমাধান


