বিজ্ঞাপন

বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। এই বাজেটে সাধারণ করদাতাদের জন্য ৫ বছরের আয়কর রোডম্যাপ ঘোষণার পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি আনতে কর কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণীত এ বাজেটে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো এবং দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বাজেট। এর আগে মন্ত্রিপরিষদ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন দেয়।

উন্নয়ন ও ভর্তুকিতে বড় বরাদ্দ

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক সহায়তা ও প্রকল্প ঋণ থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি ও মেগা প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রাখা এবং নতুন অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে এ খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এদিকে বাজার পরিস্থিতি, জ্বালানি খাত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগামী অর্থবছরে ১ লাখ ১৭ হাজার কোটি থেকে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি ও প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই অর্থ মূলত গ্যাস, বিদ্যুৎ, সার ও খাদ্য আমদানিতে ব্যয় করা হবে।

রাজস্ব আদায়ে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য

বাজেট বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এটি ৭১ হাজার কোটি টাকা বেশি।

এই লক্ষ্যের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একাই ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এছাড়া এনবিআর-বহির্ভূত কর থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং কর-বহির্ভূত রাজস্ব খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা আদায়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে।

এনবিআরের আওতায় সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ভ্যাট খাতে, যার পরিমাণ ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। আয়কর ও মূলধনী মুনাফার ওপর কর থেকে আদায়ের লক্ষ্য ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৫ কোটি টাকা। এছাড়া সম্পূরক শুল্ক থেকে ৮২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, আমদানি শুল্ক থেকে ৬১ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক থেকে ৭ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা এবং রপ্তানি শুল্ক থেকে ৯৯ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রেকর্ড ঘাটতি ও ঋণ সংগ্রহের পরিকল্পনা

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয়ের পরিমাণ আয়ের তুলনায় বেশি হওয়ায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি থেকে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকার নিট বাজেট ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

এই ঘাটতি মোকাবিলায় বৈদেশিক উৎস থেকে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।

ঋণের পরিমাণ বাড়ার ফলে আগামী অর্থবছরে সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আগামী অর্থবছরের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৬ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পড়ুন: বাজেট ২০২৬-২৭: যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন