বিজ্ঞাপন

সীমান্তে পুই ইন- পুশ ব্যাক খেলা শেষে ক্লান্ত জয়নাবকে ফেরৎ নিলো বিজিবি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ অনন্তপুর নাজিরহাট সীমান্তে দিনভর পুশইন-পুশব্যাক নাটকীয়তার পর বাংলাদেশি শিশুকে ফেরত নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বিজ্ঞাপন

ওই শিশুটির নাম জয়নাব বয়স ৯ বছর। সে মধ্য কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী এবং মধ্যকাশিপুর ঘগোয়ারপাড় গ্রামের জামাল হোসেনের কন্যা।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ওই সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৪৩-এর ৩ এসএর কাছে খায়রুল ইসলামের বাড়ির পেছনের বাঁশ বাগানে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের পর শিশুটিকে ফেরত নেওয়া হয়।

পতাকা বৈঠকে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন কাশিপুর বিওপির সুবেদার ইব্রাহিম বিজিবি দলের নেতৃত্ব দেন। তবে বিএসএফ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে কে ছিলেন তা জানায়নি বিজিবি।

দক্ষিণ অনন্তপুর সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৯৪৩ এর সাব পিলার ৩ এর কাছাকাছি এলাকায় বিএসএফ এক কন্যা শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিএসএফের এমন প্রচেষ্টার বিপরীতে শক্ত অবস্থান নেয় বিজিবি। শিশুটিকে কেন্দ্র করে দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত চলে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পুশইন-পুশব্যাকের চেষ্টা চলে। পরে শেষ বিকেলের দিকে বিএসএফ শিশুটিকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে পুরো এলাকায় খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে শিশুটির মা তার সন্তানকে খুঁজতে খুঁজতে সীমান্তে এসে জানতে পারেন বিএসএফের হাতে এক কন্যা শিশু আটক হয়েছে। পরে তিনি নিশ্চিত হন ওই শিশুটি তারই। বিষয়টি বিজিবিকে জানালে তারা বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে।

শিশুটির মা নাজমা বেগম বলেন, আমার মেয়ে মধ্য কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সকাল ১০টার দিকে স্কুলে পাঠানোর সময় সে খাবারের বায়না ধরে। কিন্তু তিনি খাবার না দিয়ে তাকে স্কুলে পাঠিয়ে দেন। পরে দুপুর ১২টায় আবার খাবারের জন্য বাড়ি ফিরে আসলে তার বাবা তাকে স্কুল শেষ করে পরে খাবার খেতে বলেন। এতে শিশুটি অভিমান করে ওই সীমান্তের বিপরীতে ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার সেউটি এলাকায় ঢুকে পড়ে। বিএসএফ তাকে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিজিবি পুশইন ভেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়।

শিশুটি বাংলাদেশি এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেয় বিজিবি। রাত ১১টা ৩০ মিনিটে বিজিবি বিএসএফের পনেরো মিনিটের মতো বৈঠকের পর রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে শিশুটিকে বিজিবির কাছে ফেরত দেওয়া হয়। পরে বিজিবি তাকে তার বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেয়। এসময় কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক, ইউপি সদস্য ফেরদৌস আলমসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক বলেন, রাতে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠকে আমিও উপস্থিত ছিলাম।পরে শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে বিজিবির কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

পড়ুন- আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন