জামায়াতের নিকাব পরা নারী সংসদ সদস্যদের (এমপি) নিয়ে কুমিল্লা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তার বক্তব্যকে বর্ণবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করে তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি সংসদীয় রীতিনীতি এবং সাংবিধানিক অধিকার—সবকিছুর সীমাকে অতিক্রম করে গিয়েছে।
আজ রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলাকালে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী নিকাব পরা নারী এমপিদের নিয়ে কটাক্ষ করেন। তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘বুঝলাম না তো, কারা আপনারা?’
প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, বিরতির ঠিক আগে সরকারদলীয় মাননীয় একজন সংসদ সদস্যের বক্তব্যকে ঘিরে যেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এখানে তৈরি হলো, যদিও আপনি তার বক্তব্যের সেই অংশটুকুকে এক্সপাঞ্জ করেছেন, এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই; কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য আছে। আপনার কাছে অনুরোধ আমাকে দুই মিনিট সুযোগ দেওয়ার জন্য। মাননীয় সংসদ সদস্য, উনি বিভিন্ন সময় বক্তব্য দেন। আমরা মনোযোগ দিয়ে উনার কথা শুনি। উনার বক্তব্যে সূক্ষ্ম রসবোধ, ইতিহাস চেতনা সবকিছুই আমরা গভীরভাবে…।’
তিনি বলেন, ‘আজকে উনি উনার বক্তব্যে যা বলেছেন, তা আসলে সংসদীয় রীতিনীতি এবং আমাদের সাংবিধানিক অধিকার—সকল কিছুর সীমাকে অতিক্রম করে গিয়েছে। উনি উনার বক্তব্যে প্রথমত সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে নিয়ে উনি কটাক্ষ করেছেন। উনার (উপনেতা) সাথে উনার (মনিরুল হক চৌধুরী) ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকতে পারে, ব্যক্তিগত ইতিহাস থাকতে পারে। কিন্তু সেটাকে সংসদে এনে যেভাবে কটাক্ষ করা হলো মাননীয় স্পিকার, এটা অমার্জনীয় অপরাধ বলে আমরা মনে করছি।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, উনি বিরোধী দলের মহিলা এমপিদের, আমাদের নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে যে ধরনের কথা বললেন, তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে হরণ করা সম্পর্কিত যে ধরনের বক্তব্য দিলেন, এটাও আমরা মনে করি একটি অমার্জনীয় অপরাধ। প্রত্যেকটা ব্যক্তির, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তার ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে, পোশাকের স্বাধীনতা রয়েছে। উনি একজন সংসদ সদস্য হিসেবে সেই স্বাধীনতাকে লঙ্ঘন করে এই ধরনের হীন বক্তব্য দিয়েছেন। উনার হীন মানসিকতার পরিচয় পেয়েছে।’
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আমরা মনে করি উনার বক্তব্যে একটি বর্ণবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ পেয়েছে। ফলে আমরা আশা করব, ভবিষ্যতে এই ধরনের বক্তব্য কোনো সংসদ সদস্যের কাছ থেকে যাতে মহান এই জাতীয় সংসদে আর উচ্চারিত না হয়।’
এর আগে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএনপির এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমাদের হাউজে আমাদের বোনেরা এসেছে এমপি হইয়া। আপনিও অভিনন্দন জানাইছেন, আমিও অভিনন্দন জানাই। সবাই মেধাবী। দুইজনের বক্তৃতা শুনেছি, আগামী দিনে কিছু করতে পারবেন, ভবিষ্যত আছে, লেখাপড়া জানা। কিন্তু, বুঝলাম না তো কারা আপনারা?’
এ সময় নারী আসনসহ বিএনপির সংসদ সদস্যরা সেটিকে সমর্থন জানিয়ে টেবিল চাপড়ান। একই সঙ্গে হাস্যরসেও ফেটে পড়েন। মনিরুল হক চৌধুরী আরও বলেন, ‘আপনারা এদিকে দেখতে পারেন, আমরা এদিকে দেখলে বুঝব না কী আছে, এটা ঠিক না তো!’
মনিরুল হক চৌধুরীর এই বক্তব্যে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ করলে মনিরুল হক চৌধুরীকে বাধা দেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি কারও ‘পার্সোনাল ফ্রিডমে’ আঘাত না দিতে বলেন। ডেপুটি স্পিকার বলেন, পার্সোনাল ফ্রিডম নিয়ে কথা বলা উচিত না।
এর আগের বক্তব্যে মনিরুল হক চৌধুরী একটি অনুষ্ঠানের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, তিনি একটি প্রোগ্রামে গিয়ে দেখেন ‘একটা কিছু হাঁটাহাঁটি করতেছে’। তিনি তখন জামায়াতের নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে আলাপ করেন। বলেন, ‘বললাম যে, “তাহের ভাই, ভাবি কই?” বললেন যে, “এই যে।” বললাম, “আপনি যে বদলায় আনেন নাই, এটা কেমনে বুঝব”?’
পড়ুন : সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে হট্টগোল, রুলিং দিলেন স্পিকার


