আগেরদিন জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল ২০২৬ বিশ্বকাপের অভিষিক্ত দেশ কুরাসাও। অনেকেই মনে করেছিলেন– স্পেনের বিপক্ষে আরেক নবাগত দেশ কেপ ভার্দেও বুঝি এমনই বড় বিপর্যয় দেখতে যাচ্ছে! তবে চলতি আসরের অন্যতম অঘটনের জন্ম দিয়েছে কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট স্পেনকে তারা গোলশূন্য সমতায় আটকে দিয়েছে।
২০১০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন স্প্যানিশদের বিপক্ষে কেপ ভার্দের পারফরম্যান্স কতটা অসাধারণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ছিল– এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ তাদের ফাউল-সংখ্যা। পুরো ম্যাচে মাত্র একটি ফাউল করেছে কেপ ভার্দে। যা ১৯৬৬ বিশ্বকাপ থেকে সংরক্ষিত ইতিহাসে কোনো দলের এক ম্যাচে করা সবচেয়ে কম ফাউল।
প্রথমার্ধে সিডনি লোপেস ক্যাবরাল ওই একমাত্র ফাউলটি করেছিলেন, আর সেই অপরাধের জন্য তিনি হলুদ কার্ড দেখেন। ক্রীড়াভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিসংখ্যান তুলে ধরায় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান অপ্টা। তারা ১৯৬৬ সাল থেকে অনুষ্ঠিত সব বিশ্বকাপের তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। তাদের দাবি– নির্দিষ্ট ম্যাচে সর্বনিম্ন একটি ফাউলের রেকর্ড গড়ল কেপ ভার্দে।
কেপ ভার্দের জন্য গতকাল রাতটি বিখ্যাত ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সেই হিসেবে সবচেয়ে কম ফাউলের বিষয়টি কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বহীন মনে হতে পারে। তবে এটি ফুটবলারদের একাগ্রতা এবং চিন্তার স্বচ্ছতার ইঙ্গিত বহন করে। যা ১১ জন ফুটবলারকে শেষ পর্যন্ত একতাবদ্ধ রেখেছিল। তাদের পুরো দৃষ্টি ছিল প্রতিপক্ষ স্পেনকে যেকোনোভাবে রুখে দেওয়ার দিকে। রক্ষণভাগে জমাটবদ্ধ হয়ে থাকার পাশাপাশি সুযোগ পেলে আক্রমণও করেছে স্পেনের চেয়ে ৬৪ ধাপ পিছিয়ে থাকা দলটি।
২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের মাত্র একটি ফাউলের বিশ্বরেকর্ডের আগে, এক ম্যাচে সবচেয়ে কম ফাউল করা দল ছিল তুরস্ক। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ গোলে হারের ম্যাচটিতে তারা চারটি ফাউল করেছিল।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম উপস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে অন্যান্য ফেভারিট দলেরও চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে কেপ ভার্দে। কয়েকদিন আগেও তেমন আলোচনায় না থাকা আফ্রিকান দ্বীপ রাষ্ট্রটি এখন গোটা বিশ্বের নজরে চলে এসেছে, কেড়ে নিয়েছে মনোযোগ।
পড়ুন:বিশ্বকাপে স্পেনের প্রথম ম্যাচে শুরুর একাদশে নেই ইয়ামাল
দেখুন:ফুটবলের আড়ালে আসল যু/দ্ধ!
ইমি/


