চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যা মামলায় ১৯ জনকে আসামি করে রাউজান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাতে নিহতের বড় ভাই ও বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে দুইজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আসা সশস্ত্র কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ধাওয়া করে গুলি চালায়।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে দৌড়ানোর সময় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সড়কে পড়ে যান মাসুদ। এরপর হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি চালায়। প্রথম দফায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরও তারা পুনরায় ফিরে এসে গুলি করে এবং পরে অটোরিকশাযোগে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবেও তিনি আলোচনায় ছিলেন।
প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার, স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পড়ুন- শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালকের পদত্যাগ


