বিজ্ঞাপন

বানেশ্বরের আমের হাটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, খোঁজ নিলেন দাম ও বাণিজ্যের চিত্র

রাজশাহীর আমের খ্যাতি যে দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও পৌঁছে গিয়েছে, তারই যেন আর এক প্রমাণ মিলল মঙ্গলবার সকালে। পুঠিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর আমবাজারে হাজির হলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত Brent Thomas Christensen। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। রাষ্ট্রদূত হিসেবে তিনি চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। U.S. Embassy in Bangladesh +1 মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক সংলগ্ন বানেশ্বর আমবাজারে পৌঁছে রাষ্ট্রদূত বাজারের সার্বিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। মৌসুমের ব্যস্ততম সময়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই আমবাজারে তিনি বিভিন্ন জাতের আমের বেচাকেনা পর্যবেক্ষণ করেন। বাজার সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রদূত বিশেষভাবে ক্ষীরসাপাত (হিমসাগর), ল্যাংড়া, আম্রপালি ও বারি-৪ জাতের আমের বর্তমান বাজারদর, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে তিনি আম বিপণনের বাস্তব চিত্র জানার চেষ্টা করেন। সফরকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মোঃ নাইমুল হাসান, রাজশাহীর পুলিশ সুপার; মোঃ লিয়াকত সালমান, পুঠিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও); এবং আঃ রাজ্জাক দুলাল, বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য-সহ প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, বিদেশি কূটনীতিকের এমন সফর রাজশাহীর আমশিল্পের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়াবে। আম উৎপাদন ও বিপণনে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বানেশ্বর বাজার থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রদূতের এই সফর সেই বাজারের গুরুত্বকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এল।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন মঙ্গলবার সকালে চার সদস্যের সফরসঙ্গী নিয়ে রাজশাহী সফরে আসেন। সফরকালে তিনি রাজশাহীর আম শিল্প, কৃষি সম্ভাবনা ও স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

সকাল ৮টা ১৬ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান রাষ্ট্রদূত ও তাঁর সফরসঙ্গীরা। পরে সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে তারা সড়কপথে পুঠিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর আম হাট হয়ে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির উদ্দেশে রওনা হন।

সকাল ৯টার দিকে রাষ্ট্রদূত উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ আমের বাজার বানেশ্বর আম হাট পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর এরিক গিলান, পলিটিক্যাল অফিসার চার্লস বেসনার্ডসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে তিনি বিভিন্ন আড়ত ঘুরে দেখেন, আম ব্যবসায়ী ও চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কয়েক ধরনের আমের স্বাদও গ্রহণ করেন। ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা তাঁকে রাজশাহীর আম উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং রপ্তানির সম্ভাবনা সম্পর্কে অবহিত করেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, “রাষ্ট্রদূত হিসেবে রাজশাহীতে এটি আমার প্রথম সফর। এর আগে ২০২০ সালে একবার এসেছিলাম। এবার বিশেষভাবে আমের মৌসুমে এসেছি, কারণ আমি রাজশাহীর আমের স্বাদ নিতে চেয়েছিলাম। এখানে এসে আমি সত্যিই আনন্দিত।”

তিনি বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্য থেকে এসেছেন।

বাংলাদেশের আম রপ্তানির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমেরিকানরা আম খুব পছন্দ করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ সময় হিমায়িত আম পাওয়া যায়। রাজশাহীর মতো এত তাজা আম সেখানে সহজে পাওয়া যায় না।

আম রপ্তানি সম্প্রসারণে উন্নত কোল্ড চেইন বা হিমাগার ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সংরক্ষণ ও রপ্তানি সুবিধা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের আম আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বড় সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা মনে করেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই সফর রাজশাহীর আমকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও পরিচিত করতে এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

পড়ুন- আদ্‌-দ্বীনে শিশু মৃত্যুর দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন