দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করা এবং চিকিৎসক ও রোগীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আগামী ২০ কর্মদিবসের মধ্যে আইনের খসড়া প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিভিন্ন সংকট, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা, রোগীদের অধিকার এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের বিষয়গুলোকে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামোর আওতায় আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও আইন শাখার যুগ্মসচিবরা। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের একজন উপসচিব বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার প্রতিনিধিকেও সদস্য করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব (সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১) কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে আইন প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, অংশীজনদের মতামত গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সদস্য কো-অপ্ট করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৮ জুন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকদের উপস্থিতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভার যৌথ সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই সভায় চিকিৎসকদের নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ, চিকিৎসাসেবা প্রদানকালে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা এবং রোগীদের অধিকার সংরক্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা এবং চিকিৎসাসেবা ঘিরে নানা ধরনের বিরোধের ঘটনা আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে রোগীদের পক্ষ থেকেও সেবার মান, জবাবদিহিতা ও ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করার দাবি দীর্ঘদিনের। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার একটি সমন্বিত আইন প্রণয়নের পথে হাঁটছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন কার্যকর হলে চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বাড়বে। চিকিৎসকরা নিরাপদ পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন এবং রোগীরাও তাঁদের অধিকার সম্পর্কে আরও সচেতন ও সুরক্ষিত হবেন। পাশাপাশি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রও আরও স্পষ্ট হবে।
কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনের খসড়া প্রণয়ন, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, পেশাজীবী সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা। প্রয়োজন হলে আইন বিশেষজ্ঞ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসক প্রতিনিধিদেরও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা যেতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ২০ কর্মদিবসের মধ্যে খসড়া আইন জমা দেওয়ার পর তা পর্যালোচনা করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় সংশোধন ও অনুমোদনের ধাপ পেরিয়ে আইনটি চূড়ান্ত করা হবে।
পড়ুন:মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে, পবিত্র আশুরা ২৬ জুন
দেখুন:ই/স/রা/ই/লে/র খেলা শেষ করবে ইরান?
ইমি/


