বিজ্ঞাপন

মানুষ স্থিতিশীলতা, শান্তি আর কর্মসংস্থান চায় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এই দেশের মালিক হচ্ছে জনগণ। গত এক যুগ ৭১ সালের মত মানুষ তাদেঁর ভোটের জন্য লড়াই করেছে, সেসময় মানুষের ভোট আর কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিলো। ২০২৪ সালে মানুষ, বুকের তাজা রক্ত দিয়ে সেই অধিকার ফিরিয়ে এনেছে। পাঁচ তারিখ দেশের মানুষ স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এখন মানুষ শান্তি চায়, কাজ চায়, দেশের মানুষ এখন স্থিতিশীলতা চায়, কর্মসংস্থান চায়, চিকিৎসা আর শিক্ষার ভাল সুযোগ চায়।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার শহরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে একযোগে এই অনুষ্ঠান থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচীর তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন । পরে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ১৫৫ জন উপকারভোগীর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড এবং দুস্থদের ঘর নির্মাণের টাকা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃওি ও অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তার চেক উপকারভোগীর হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় দেশে ৭১ সালে এক দলের ভুমিকার সমালোচনা করে সরকার প্রধান বলেন, মনে আছে তো ৭১ তারা কী করেছিলো, ৮৬ সালে কী করেছিলো, গত এক যুগ আন্দোলনেও তাদের পাওয়া যায়নি। এই সময়ে যারা শহীদ হয়েছে, জেল খেটেছে তারা সবাই বিএনপির কর্মী। অতীতে দেখেছি, যখন দেশ এগিয়ে চলে, অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকে তখনই দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়, অতীতে বিএনপির বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে যারা আন্দোলন আন্দোলন খেলা করেছিলো, তারা আজকে আবার বলছে, এই সরকারকে একদিনও সময় দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, যারা বলে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা কি জনগনের স্বার্থে কথা বলছে না নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে, তারা নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শক্তির উৎস জনগন। আমরা জনগনকে নিয়ে রাজনীতি করি। জনগন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি আগামী ৫ বছর দেশ পরিচালনা করবে। যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে কী করা উচিত, দেশের মানুষ যদি সতর্ক থাকে তাহলে আমাদের আর কোন চিন্তা করতে হবে না। অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ এনে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, অতীতে দেশের জনগনের টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এখন থেকে বাংলাদেশের মানুষকে সাথে নিয়ে অর্থ পাচার রোধ করবো। এই দেশের মানুষের অর্থ এই দেশেই থাকবে, ১২ ফেব্রুয়ারির আগ পর্যন্ত আমরা একটা দল ছিলাম কিন্তু ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর থেকে, আমরা সব মানুষের সরকার। যারা ভোট দিয়েছে, যারা ভোট দেয়নি সবার সরকার। আমরা সব মানুষের জন্য কাজ করতে চাই, বিএনপি সরকার সব জনগনের কল্যানে কাজ করতে চায়।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আর বক্তব্য রাখেন প্রবাসীকল্যান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ -৩ আসনের এমপি জি.কে গউছ, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, জেলা পরিষদ প্রশাসক ভিপি মিজানুর রহমান মিজান, বিএনপির আহ্বায়ক মো: ফয়জুল করিম ময়ূন ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন। ভিডিওকনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

এর আগে দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে সড়কপথে মৌলভীবাজার এসে পৌছান প্রধানমন্ত্রী, এসময় সড়কের দুদারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই রাস্তায় দাড়িয়ে থাকা মানুষ ও চাশ্রমিকরা তাকে অভিবাদন জানান। এপথেই প্রধানমন্ত্রী চলে যান শ্রীমঙ্গলে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে , সেখানে জনসভায় যোগ দিয়ে ১৫২ জনের মধ্যে বিতরণ করেন ফ্যামিলি কার্ড।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে থাকেন দলীয় নেতাকর্মীরা। এতে কানান কানায় পূর্ণ হয়ে যায় সভাস্থল।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : দিনাজপুরে যাত্রীবেশে প্রতিবন্ধী চালকের ইজিবাইক ছিনতাইয়ের অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন