যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) ভার্চুয়ালি সই করেছেন দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাসুদ পেজেশকিয়ান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউজ এবং তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর আল জাজিরার।
বুধবার (১৭ জুন) রাতে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে জি-৭ সম্মেলন-পরবর্তী নৈশভোজে অংশ নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানেই তিনি ইরানের সঙ্গে সমঝোতা-সংক্রান্ত নথিতে সই করেন বলে জানান।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ বন্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। উভয় পক্ষের দাবি, চুক্তিটি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ থাকবে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উভয় পক্ষ ইলেকট্রনিকভাবে নথিতে সই করেছে এবং এটি কার্যকর হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া বক্তব্যে বাঘাই বলেন, দুই দেশের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হয়েছে। এখন এর বাস্তবায়ন মূল্যায়নের সময়।
এদিকে, শুক্রবার (১৮ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের আলোচক দলের যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে চুক্তিটি ভার্চুয়ালি স্বাক্ষরিত হওয়ায় সেখানে কোনো সরাসরি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে না। মুখোমুখি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে কি না, সে বিষয়ে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
যা আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে
টানা ৪০ দিনের সংঘাত এবং যুদ্ধবিরতির নামে দুই মাসেরও বেশি সময়ের অচলাবস্থার পর অবশেষে ১৪ দফার একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্টরা। অবশেষে বুধবার (১৭ জুন) রাতে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে জি-৭ সম্মেলন-পরবর্তী নৈশভোজে অংশ নিয়ে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা-সংক্রান্ত নথিতে সই করেন ট্রাম্প।
চুক্তির খসড়ায় যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল, জব্দ সম্পদ মুক্ত করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে তেহরানের প্রতিশ্রুতিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যকার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ শিরোনামের এই নথি জনসমক্ষে প্রকাশ না করায় সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্র এটি প্রকাশ করে।
সমঝোতা স্মারকের ১৪টি মূল বিষয়ের মধ্যে রয়েছে—সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করা, ইরানের বিরুদ্ধে নৌঅবরোধ প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা, ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা গ্রহণ, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ না করার অঙ্গীকার।
এ ছাড়া চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখা, ইরানি তেল রপ্তানিতে ছাড়, জব্দকৃত অর্থ ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া, বাস্তবায়ন তদারকির জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা গঠন, পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনা এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তির অনুমোদনের বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পড়ুন: মানুষ স্থিতিশীলতা, শান্তি আর কর্মসংস্থান চায় : প্রধানমন্ত্রী
আর/


