যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে চুক্তি হওয়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রয়টার্সের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতেই তেলের দামে পতন দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করে।
দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশার কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ বাজার তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত ১২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৯ সেন্ট বা ১ দশমিক ১২ শতাংশ কমেছে। এতে প্রতি ব্যারেলের দাম নেমে এসেছে ৭৮ দশমিক ৬৬ ডলারে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও কমেছে। ব্যারেলপ্রতি ৯৮ সেন্ট বা ১ দশমিক ২৮ শতাংশ কমে এর মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৫ দশমিক ৮১ ডলারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। এ পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। প্রণালিটি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই রাজনৈতিক সমঝোতার ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে এবং চুক্তির বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমতে পারে। তবে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন বাজারে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।
পড়ুন: যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারকে সই ট্রাম্প-পেজেশকিয়ানের
আর/


