বিজ্ঞাপন

টানা বৃষ্টিতে কালিয়াকৈরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, ১৬ শিল্পকারখানায় ছুটি ঘোষণা

টানা ভারী বর্ষণে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির প্রায় ৩২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অনেক এলাকায় এখনো পানি নামেনি।

বিজ্ঞাপন

এতে চার হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও সড়কে পানি ঢুকে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণে পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় অন্তত ১৬টি শিল্পকারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে হাজারো শ্রমিক কর্মস্থলে যেতে পারেননি।

সরেজমিনে বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পৌরসভার হরিণহাটি, জোড়াপাম্প, বিশ্বাসপাড়া, ভাঙ্গা মসজিদ, আনসার একাডেমি এলাকা, পল্লীবিদ্যুৎ, নিশ্চিতপুর, হাবিবপুর, রূপনগর, শিয়ালপাড়া, ডাইনকিনী, হরতকীতলা, দিঘীরপাড় বটতলা, পূর্ব চান্দরাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার চিত্র দেখা যায়। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানিতে সড়ক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর আনসার ভিডিপি একাডেমির ৩ নম্বর গেট থেকে হরিণহাটি এপেক্স এলাকা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করে এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক যানবাহন বিকল হয়ে সড়কের পাশে আটকে থাকতে দেখা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল ও জলাশয় ভরাট, পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়া এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বাসপাড়া, হরিণহাটি ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোর মুখ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। এছাড়া আনসার ভিডিপি একাডেমির ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন একটি কালভার্টে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

হরতকীতলা এলাকার বাসিন্দা ওমর উদ্দিন বলেন, বাড়িতে কোমরসমান পানি উঠেছে। ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছে।

বিশ্বাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৩২ ঘণ্টা হয়ে গেলেও এখনো বাড়ির পানি নামেনি। প্রতি বছর বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগে পড়তে হয়। স্থায়ী সমাধান না হলে এই কষ্ট থেকে মুক্তি নেই।

হাবিবপুর এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে আছে। অনেক শ্রমিককে হাঁটুপানি মাড়িয়ে কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার কয়েকটি কারখানার ভেতরে পানি প্রবেশ করায় অন্তত ১৬টি শিল্পকারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

জেলা মোটরমালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক দেওয়ান জসিম উদ্দিন বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সকাল থেকেই স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও এ কাজে অংশ নিয়েছেন।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে খালগুলোর পানি ধারণক্ষমতা অতিক্রম করেছে। ফলে পানি দ্রুত নামতে পারছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ড্রেন পরিষ্কার, খাল থেকে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে খাল পুনঃখনন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কার্যকর উদ্যোগ না নিলে প্রতি বর্ষাতেই কালিয়াকৈরবাসীকে একই দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

পড়ুন:কালীগঞ্জ থানায় ওসির বিতর্কিত মতবিনিময়: আমন্ত্রণ পাননি টেলিভিশন ফোরামসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা

দেখুন:সুন্দরবনের শেলা নদীতে কুমিরের আ/ক্র/ম/ণে নারীর মৃ/ত্যু 

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন