বিশ্বকাপের ‘এল’ গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। বুধবার রাতের এই ম্যাচে জোড়া গোল করে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকারের এক রেকর্ডে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ইংল্যান্ডের ইতিহাসেও শীর্ষে উঠে এসেছেন তিনি।
ম্যাচের ১২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল করেন কেইন। বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি তার পঞ্চম পেনাল্টি গোল (টাইব্রেকার ছাড়া), যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই কীর্তিতে তিনি পেছনে ফেলেছেন যৌথভাবে ৪টি পেনাল্টি গোল করা লিওনেল মেসি, ইউসেবিও, গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা ও রব রেনসেনব্রিঙ্ককে।
তবে প্রথম প্রচেষ্টায় গোল পাননি কেইন। তার শট ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ ঠেকিয়ে দেন। পরে দেখা যায়, শট নেওয়ার আগে লিভাকোভিচ গোললাইন থেকে এগিয়ে আসায় পেনাল্টিটি পুনরায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। দ্বিতীয়বার আর ভুল করেননি ইংলিশ অধিনায়ক।
এই গোলের মাধ্যমে আরেকটি মাইলফলকে পৌঁছান কেইন। ডেভিড বেকহামের পর দ্বিতীয় ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপে (২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি।
ম্যাচের ৪২ মিনিটে হেড থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন কেইন। এতে বিশ্বকাপে তার গোল সংখ্যা দাঁড়ায় ১০-এ, যা ইংল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার যৌথ রেকর্ড। এতদিন এই রেকর্ড ছিল গ্যারি লিনেকারের দখলে, যিনি ১০ গোল করেছিলেন বিশ্বকাপে।
ইংল্যান্ডের জার্সিতে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন কেইন। জাতীয় দলের হয়ে তার গোল সংখ্যা ৮১, যেখানে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওয়েইন রুনির গোল ৫৩টি।
হ্যারি কেইনের পেনাল্টি নিয়ে নাটক, দুইবার শট নিয়ে গোল
এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ শুরু হতে না হতেই দেখা দেয় নাটকীয়তা। ম্যাচের নবম মিনিটে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড, শট নিতে যান অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তবে প্রথম প্রচেষ্টায় গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। ধীরগতির রান-আপে নেওয়া সেই শট ঠেকিয়ে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ। তিনি বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল রুখে দেন।
তবে সেই ঘটনার পরই আসে নতুন মোড়। ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার জসকো গভার্দিওল পেনাল্টি নেওয়ার আগেই বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়ায় নিয়ম অনুযায়ী আবারও পেনাল্টি নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। দ্বিতীয় সুযোগে আর ভুল করেননি হ্যারি কেইন। পুনরায় নেওয়া শটে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন তিনি।
পড়ুন: দেশের বাজারে ফের বাড়লো স্বর্ণের দাম
আর/


