বিজ্ঞাপন

এআইয়ের বিস্তারে বাড়ছে তাপ ও বিদ্যুতের চাপ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, গবেষণা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বাড়ছে। তবে প্রযুক্তির এই অগ্রগতির আড়ালে পরিবেশের ওপর একটি নতুন ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সতর্ক করছেন গবেষকেরা। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এআই পরিচালনাকারী বিশাল তথ্যকেন্দ্রগুলো শুধু বিপুল বিদ্যুৎই ব্যবহার করছে না, আশপাশের পরিবেশের তাপমাত্রাও বাড়িয়ে তুলছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এআই সেবা যেমন চ্যাটজিপিটি, জেমিনি বা ক্লড ব্যবহারকারীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে বিশাল তথ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভর করে। এসব তথ্যকেন্দ্রে হাজার হাজার সার্ভার ও শক্তিশালী প্রসেসর দিনরাত কাজ করে। ফলে সেখানে বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপন্ন হয়, যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজন হয় উন্নত শীতলীকরণ ব্যবস্থা।

গবেষকদের মতে, এআইভিত্তিক তথ্যকেন্দ্রগুলোর কারণে আশপাশের ভূমির তাপমাত্রা গড়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি দেখা গেছে। গবেষকেরা এই ঘটনাকে ‘তথ্য-তাপ দ্বীপ’ (ডাটা-হিট আইল্যান্ড) প্রভাব হিসেবে উল্লেখ করছেন।

আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে তথ্যকেন্দ্রগুলো প্রায় ৪১৫ টেরাওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে, যা বৈশ্বিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় ১.৫ শতাংশ। গত কয়েক বছরে এই খাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রবৃদ্ধি ছিল উল্লেখযোগ্য। পূর্বাভাস বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তথ্যকেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৯৪৫ টেরাওয়াট ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে অতিবৃহৎ তথ্যকেন্দ্রের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ১১ হাজার ৬০০–এর বেশি তথ্যকেন্দ্র সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে ৪ হাজার ৩০০–এর বেশি তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও দ্রুত বাড়ছে এই অবকাঠামো।

একটি অতিবৃহৎ তথ্যকেন্দ্র সচল রাখতে ১০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে এসব কেন্দ্র ঠান্ডা রাখতে ব্যবহৃত হয় বিপুল পরিমাণ পানি। একটি ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তথ্যকেন্দ্র বছরে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন লিটার পানি ব্যবহার করতে পারে, যা প্রায় ৮০ হাজার মানুষের বার্ষিক পানির চাহিদার সমান।

সম্প্রতি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, নানইয়াং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা ২০০৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নাসার উপগ্রহভিত্তিক তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করেন। গবেষণায় বিশ্বজুড়ে ৬ হাজার ৭০০–এর বেশি তথ্যকেন্দ্রের আশপাশের এলাকার তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, তথ্যকেন্দ্র চালুর পর আশপাশের এলাকায় উল্লেখযোগ্য তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঘটেছে এবং এর প্রভাব ১০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, তথ্যকেন্দ্রের ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বসবাসকারী ৩৪ কোটির বেশি মানুষ এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে পড়তে পারেন। এতে গরমজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহারও বেড়ে যেতে পারে, যা আবার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণ হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেমে থাকবে না; বরং ভবিষ্যতে এর ব্যবহার আরও বাড়বে। তাই এখনই পরিবেশবান্ধব তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, তাপ পুনর্ব্যবহার প্রযুক্তি এবং পানি ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভার্চুয়াল হলেও এর প্রভাব বাস্তব। ব্যবহারকারীর পর্দায় কয়েক সেকেন্ডে যে উত্তর পৌঁছে যায়, তার পেছনে কোথাও না কোথাও বিশাল তথ্যকেন্দ্র বিদ্যুৎ খরচ করছে, পানি ব্যবহার করছে এবং তাপ ছড়াচ্ছে। তাই ভবিষ্যতের প্রযুক্তি উন্নয়নের পাশাপাশি টেকসই ও দায়িত্বশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

পড়ুন:বগুড়ার বিতর্কিত দুই ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেখুন:ব্রাজিলের হেক্সা মিশন ঘিরে ভক্তদের উল্লাস

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন