ছাগল পিটিয়ে হত্যা করে ৩৫ হাজার টাকার ক্ষতি, নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী পরিবার
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় সুপারি বাগানে ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে তিনটি ছাগল পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার বিরুদ্ধে। এতে আনুমানিক ৩৫ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী দাবি করেছেন।
শনিবার (২০ জুন) সকালে দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মেনকিফান্দা গ্রামে এই নিষ্ঠুর ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাগল মালিক মো. ছাইদুল ইসলাম (৪৫) বাদী হয়ে একই গ্রামের পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেনকিফান্দা গ্রামের বাসিন্দা মো. ছাইদুল ইসলামের আটটি ছোট-বড় ছাগল বাড়ির উত্তর পাশে মিয়া হোসেন (৫০) নামের ব্যক্তির সুপারি বাগানের পাশে ঘাস খাচ্ছিল। ওই সময় বাগানের ভেতর কাজ করছিলেন একই গ্রামের বিবাদী মো. এমদাদুল হক (৩৫), মো. রফিকুল ইসলাম (৪৫), মো. আব্দুল কাদির (৬০), মো. মোবারক হোসেন (৩৫) ও মো. নিজাম উদ্দিন (৩২)।
বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে কাজ শেষে বিবাদীরা ছাইদুল ইসলামের বসতবাড়ির সামনে এসে প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে বলেন, “আগামীকাল যদি তোমাদের ছাগল এই সুপারি বাগানে যায়, তাহলে ছাগলগুলো নাই হয়ে যাবে।”
এই হুমকি শোনার কিছুক্ষণ পর ছাইদুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী আজুফা খাতুন ছাগলগুলো ফিরিয়ে আনার জন্য সুপারি বাগানের পাশে যান। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, তাদের দু্ইটি পাটি ছাগল এবং একটি তিন মাসের গর্ভবতী (গাভীন) ছাগল রক্তাক্ত ও মৃত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। প্রতিটি ছাগলেরই মুখ ও মাথা দিয়ে তখন রক্ত বের হচ্ছিল।
বাদী জানান, মৃত ছাগলগুলো উদ্ধার করে বিবাদীদের বাড়ির সামনে নিয়ে এর কারণ জানতে চাইলে তারা অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা ভুক্তভোগী পরিবারকে অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে বিবাদীরা বাঁশের লাঠিসোঠা হাতে নিয়ে ছাইদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীকে মারপিট করতে উদ্যত হয় এবং খুন-জখমের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা মো. জামাল উদ্দিন ও মো. রুবেল মিয়াসহ অনেকেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেন।
ভুক্তভোগী ছাইদুল ইসলাম অভিযোগে উল্লেখ করেন, সুপারি বাগানের মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় বিবাদীরা দাঙ্গাবাজ প্রকৃতির আচরণ করছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাঁধিয়ে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। প্রথমে বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করার বিষয়টি অভিযোগে রয়েছে।
বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং নিষ্ঠুর ও অন্যায় এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনের কাছে দ্রুত আইনগত বিচার দাবি করেছেন।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ আরো জানান, লিখিত অভিযোগটি তদন্তাধীন এবং মামলা নথিভুক্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পড়ুন:ফের কমল স্বর্ণের দাম
দেখুন:ব্রাজিলের হেক্সা মিশন ঘিরে ভক্তদের উল্লাস
ইমি/


