বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক আজ: শক্ত অবস্থানে তেহরান, চাপে পড়বে কি ওয়াশিংটন?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা সুইজারল্যান্ডে আজ রোববার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে লেবাননে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে ইরানের পুনরায় হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতোমধ্যে ওয়াশিংটন থেকে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদল জুরিখে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

বিজ্ঞাপন

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে থাকছেন দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। কাতারও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এবং তেল ও ব্যাংকিং খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলে সদ্য স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) পর এটি হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রথম মুখোমুখি আলোচনা।

ইরানি সূত্রগুলোর মতে, এবারের আলোচনায় লেবানন ইস্যুই হবে তেহরানের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

একজন ইরানি কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, লেবাননের সংঘাত বন্ধ না হলে তারা আলোচনার পরবর্তী ধাপকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে মনে করেন না। তাঁর ভাষ্য, সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারায় লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু বাস্তবে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফলে তেহরান মনে করছে, চুক্তির মৌলিক শর্তই এখনও পূরণ হয়নি।

ইরান বারবার বলেছে, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা চলতে থাকলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আর এগোবে না।

বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য কী?

সুইজারল্যান্ড যাত্রার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জেডি ভ্যান্স জানান, আলোচনায় তাঁর তিনটি প্রধান অগ্রাধিকার রয়েছে।

প্রথমত, ভবিষ্যৎ আলোচনার কাঠামো নির্ধারণ। দ্বিতীয়ত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অগ্রগতি অর্জন। তৃতীয়ত, লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।

ভ্যান্স বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব পর্যায়ে আলোচনা হবে, আর প্রযুক্তিগত দল মাঠপর্যায়ে থেকে বিস্তারিত কাজ এগিয়ে নেবে।

তিনি আরও বলেন, “এই সপ্তাহেই ইরানের পারমাণবিক উপকরণ কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে কিছু অগ্রগতি অর্জনের আশা করছি।”

এদিকে শনিবার ইরানের সামরিক নেতৃত্ব লেবানন পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র ওই নৌপথে নিজস্ব শুল্ক আরোপের বিষয় বিবেচনা করতে পারে।

আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত। প্রাথমিক সমঝোতায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিলেও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল।

৬০ দিনের নির্ধারিত সময়সীমা এখন শুরু হয়েছে। এই মজুত কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, সেটিই আলোচনার সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন না হলে ইরানের হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, সুইজারল্যান্ডের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রাখার মতো একটি শক্তিশালী ইস্যু নিয়ে যাচ্ছে ইরান। তেহরানের বার্তা স্পষ্ট—লেবানন সংকটের সমাধান ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়া কঠিন।

পড়ুন: সুইডেনকে ৫–১ গোলে হারিয়ে দিলো নেদারল্যান্ডস

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন