বিজ্ঞাপন

ত্যাগ, দায়িত্ব আর নির্ভরতার প্রতীক: আজ ‍বিশ্ব বাবা দিবস

বাবা। এক মধুর ডাক। এক নীরব শক্তি, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও নির্ভরতার প্রতীক। জীবনের প্রথম নায়ক, প্রথম শিক্ষক এবং প্রথম ভরসার নাম বাবা। ছোটবেলায় হাঁটতে শেখা থেকে শুরু করে জীবনের কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া পর্যন্ত বাবার অবদান নানা রূপে আমাদের জীবনজুড়ে ছড়িয়ে থাকে। মায়ের ভালোবাসা যেমন প্রকাশ্যে ধরা পড়ে, বাবার ভালোবাসা তেমনি লুকিয়ে থাকে দায়িত্ব, পরিশ্রম ও ত্যাগের ভেতরে।

বিজ্ঞাপন

আজ রোববার (২১ জুন) বিশ্ব বাবা দিবস। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে দিনটি শুধু একটি বিশেষ দিবস নয়; বরং জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানুষকে স্মরণ করার একটি আবেগঘন উপলক্ষ। যিনি হয়তো খুব বেশি কথা বলেন না, অনুভূতি প্রকাশে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, কিন্তু প্রতিটি মুহূর্তে সন্তানের পাশে থাকার চেষ্টা করেন—তিনি বাবা।

একজন বাবা পরিবারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। অনেক সময় নিজের স্বপ্ন, ইচ্ছা কিংবা আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার সংগ্রামে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। সন্তানের সুশিক্ষা, নিরাপদ জীবন ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে যান। সেই ত্যাগ ও শ্রমের গল্প অনেক সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছেও অজানা থেকে যায়।

সময়ের সঙ্গে বদলেছে সমাজ, বদলেছে বাবাদের ভূমিকাও। একসময় যেখানে বাবাদের দায়িত্ব মূলত উপার্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, এখন অনেক বাবা সন্তানের দৈনন্দিন যত্ন, পড়াশোনা, খেলাধুলা এবং মানসিক বিকাশেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। আধুনিক বাবারা শুধু অভিভাবক নন; তারা সন্তানের বন্ধু, পরামর্শদাতা এবং অনুপ্রেরণার উৎসও।

বাবা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য সব সময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। একটি আন্তরিক ধন্যবাদ, একটি ফোনকল, কিছু সময় একসঙ্গে কাটানো কিংবা একটি ছোট্ট আলিঙ্গনও বাবার জন্য হতে পারে সবচেয়ে মূল্যবান উপহার। অনেক বাবা হয়তো মুখে কিছু বলেন না, কিন্তু সন্তানের ভালোবাসা ও সম্মান তাদের গভীরভাবে স্পর্শ করে।

এই দিনে আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা তাদের বাবাকে হারিয়েছেন অথবা বাবার সান্নিধ্য থেকে দূরে রয়েছেন। তাদের জন্য দিনটি হয়ে ওঠে স্মৃতিময় ও আবেগঘন। বাবার সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, শেখানো মূল্যবোধ এবং স্নেহময় স্মৃতিগুলো তখন আরও গভীরভাবে মনে পড়ে।

বাবারা অনেক সময় নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন না। তারা ক্লান্তির কথা বলেন না, দুশ্চিন্তার কথাও সহজে জানান না। কিন্তু পরিবারের হাসি, সন্তানের সাফল্য এবং প্রিয়জনদের সুখই হয়ে ওঠে তাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ। তাই শুধু আজ নয়, বছরের প্রতিটি দিনেই বাবাদের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা প্রয়োজন।

বিশ্ব বাবা দিবসে পৃথিবীর সব বাবার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা। তাদের নীরব সংগ্রাম, অগণিত ত্যাগ এবং সীমাহীন ভালোবাসার কারণেই অসংখ্য পরিবার এগিয়ে চলেছে স্বপ্নের পথে। বাবা আছেন বলেই অনেক পথ সহজ মনে হয়, অনেক ভয় ছোট হয়ে যায়, আর জীবন পায় এক অদৃশ্য শক্তির আশ্রয়।

পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক আজ: শক্ত অবস্থানে তেহরান, চাপে পড়বে কি ওয়াশিংটন?

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন