উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ রবিবার (২১ জুন) দুপুর ১২টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল থেকেই পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করায় ব্যারাজের ভাটিতে থাকা নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় তিস্তার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি ও আবাদি জমিতেও পানি ঢুকতে শুরু করেছে। তবে, বর্তমানে মাঠে উল্লেখযোগ্য কোনো মৌসুমী ফসল না থাকায় কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা নেই বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে আগামী ৭২ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে করে স্বল্পমাত্রার বন্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন,মূলত উজানের ঢল এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই তিস্তা ও ধরলায় বন্যার সৃষ্টি হয়। গতকাল থেকেই তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং বৃষ্টির কারণে পানিমাত্রা ওঠানামা করছে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। আমরা ধরলা এবং তিস্তা নদীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছি এবং সতর্ক অবস্থায় রয়েছি।
পড়ুন- তিন মাসে ৬৭৭ শিশুর মৃত্যু: হামের ভয়াবহ বিস্তারের নেপথ্যে কী?


