বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনায় মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় বৃষ্টির মধ্যে ফাঁকা মাঠে ঘাস খেতে দেওয়া গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে জাহাঙ্গীর তালুকদার (৩৫) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২১ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার বারহাট্টা ইউনিয়নের বড়গাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জাহাঙ্গীর তালুকদার উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড়গাঁও গ্রামের মৃত আব্দুর রাশিদ তালুকদারের ছেলে।

পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরের পর থেকেই আকাশ মেঘলা হতে শুরু করে এবং হঠাৎ কালবৈশাখীর পূর্বাভাস দেখা দেয়। বেলা অনুমান আড়াইটার দিকে হঠাৎ করে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে জাহাঙ্গীর তালুকদার তার বসতবাড়ির পশ্চিম পাশের ফাঁকা জমিতে বেঁধে রাখা গরু আনতে যান। এ সময় প্রচণ্ড শব্দে হঠাৎ তাঁর ওপর বজ্রপাত হয়। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারাত্মকভাবে দগ্ধ ও অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

দূর থেকে ঘটনাটি দেখতে পেয়ে নিহতের পরিবারের লোকজন ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখান থেকে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কালক্ষেপণ না করে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পরবর্তীতে হাসপাতাল থেকে তার পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়-স্বজনরা নিহত জাহাঙ্গীর তালুকদারের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন। অকাল মৃত্যুর খবরে গোটা বড়গাঁও গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের বাড়িতে চলছে স্বজনদের শোকের মাতম।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম জানান, “মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতের শিকার হন। স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।”

চলতি মৌসুমে কালবৈশাখী ও বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে ঝড়-বৃষ্টির সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নিজে ভিজে অসহায় বৃদ্ধের মাথায় ছাতা ধরলেন ইউপি চেয়ারম্যান

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন