দুই ভিন্ন বাস্তবতার দল ফ্রান্স ও ইরাক ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলে গ্রুপপর্বে দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে। ফ্রান্স দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। আর যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক দীর্ঘ ৪০ বছর পর প্রথমবার বিশ্বকাপ মঞ্চে। আজ (২২ জুন) রাত ৩টায় যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ‘আই’ গ্রুপের এই ম্যাচটি শুরু হবে।
কাগজে-কলমে একতরফা লড়াই হওয়ার সব আয়োজন রয়েছে ম্যাচে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের তথ্যও একই কথা বলছে। ফ্রান্স র্যাঙ্কিংয়ে তিন নাম্বারে। আর ইরাকের অবস্থান ৫৭তম স্থানে। তবে বিশ্বকাপ বলে কথা। এ মঞ্চে প্রতিটি ম্যাচই নতুন গল্প লেখার সুযোগ করে দেয়। সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ইরাকও সেই গল্প লিখতে পারে।
প্রতিপক্ষ প্রথম ম্যাচেই নরওয়ের কাছে বিধ্বস্ত হওয়া এশিয়ার প্রতিনিধি ইরাক। নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-১ গোলের দারুণ জয়ে শুভসূচনা করা দিদিয়ের দেশমের দল। আজ জিতলেই এক ম্যাচ হাতে রেখে সরাসরি শেষ ৩২ বা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে নরওয়ের কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া ইরাকের জন্য টুর্নামেন্টে টিকে থাকার বাঁচা-মরার লড়াই।
দিদিয়ের দেশমের এই ফরাসি ডেরাই যেন এমবাপ্পের আসল নিরাপদ আশ্রয়। প্রথম ম্যাচেই সেনেগালের বিরুদ্ধে গোল করে অলিভিয়ে জিঁরু-কে টপকে ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি জাস্ট ফন্তেইনের বিশ্বকাপে ফরাসিদের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও ভেঙে চূর্ণ করে দিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এই মহাতারকা। টানা ১৪ ম্যাচে গোল করা ফ্রান্সের এই বিধ্বংসী আক্রমণভাগ সোমবার প্রথম ম্যাচেই ৪ গোল খাওয়া ইরাকি ডিফেন্সের জন্য বড় বিপদের কারণ। থিয়েরি অঁরির ২৮ বছর আগের রেকর্ড ভেঙে সর্বকনিষ্ঠ ফরাসি হিসেবে বিশ্বকাপে অভিষেক গোল করা ব্র্যাডলি বারকোলা আজ শুরু থেকেই থ্রি-ম্যান অ্যাটাকে এমবাপ্পের সঙ্গী হতে পারেন।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ও বর্তমান ইরাক কোচ গ্রাহাম আর্নল্ডের দল প্রথম ম্যাচে ৭০ মিনিট পর্যন্ত নরওয়ের সাথে লড়াই করলেও ব্যক্তিগত ভুলের খেসারত দিয়ে ম্যাচ হাতছাড়া করে। প্রথম ম্যাচে নরওয়ের বিরুদ্ধে গোল করার পাশাপাশি নিজের জালেই বল জড়িয়ে ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে অদ্ভুত এক রেকর্ডের মালিক হওয়া স্ট্রাইকার আয়মেন হুসেইন আজ ইরাকের আক্রমণভাগের মূল ভরসা। তবে প্রথম ম্যাচে গোলকিপার জালাল হাসানের নড়বড়ে পারফরম্যান্সের কারণে আজ পোস্টের নিচে আহমেদ বাসিলকে দেখা যেতে পায়া।
দুই দলের শক্তির পার্থক্যের কারণে ম্যাচের মূল বিষয় ফল নয়, গোলের ব্যবধানই আসল কথা। ফ্রান্সের বিপক্ষে যদি ইরাক সংগঠিত রক্ষণ গড়ে তুলতে পারে কিংবা পাল্টা আক্রমণে গোলের সুযোগ তৈরি করে ফ্রান্সের রক্ষণভাগে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে, তা হলে সেটাই তাদের বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে।
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও ইরাকের কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। প্রস্তুতি ম্যাচে স্পেনের সঙ্গে ড্র কিংবা বাছাইপর্বে বলিভিয়ার বিপক্ষে জয় কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবতা ভিন্ন। বিশেষ করে উচ্চগতির ও কৌশলগত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি তারই বড় উদাহরণ।


