বিজ্ঞাপন

দিনাজপুরে প্লাস্টিক দূষণরোধে সচেতনতা বাড়াতে স্কুল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তুলতে দিনাজপুরে একটি স্কুল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। সোমবার (২২ জুন) সকালে দিনাজপুর জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পেইনে অনুষ্ঠানে প্লাস্টিক দূষণের পরিবেশগত ও জনস্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আকরাম হোসেন। বক্তব্য দেন সহকারী শিক্ষক সুফিয়া বেগম ও জ্যোতির্ময়ী সরকার এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি আয়শা সিদ্দিকা ও ঋত্তিকা পাল। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনায় ছিলেন বেলার নেটওয়ার্ক সদস্য কংকন কর্মকার।

বক্তারা বলেন, অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণ দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। নদী, খাল, জলাশয়, কৃষিজমি ও নগর পরিবেশ প্লাস্টিক বর্জ্যে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে, জলাবদ্ধতা বাড়ছে এবং জনস্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তারা আরও বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পরিবেশবান্ধব বিকল্প উপকরণের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এর আগে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে একটি প্রামাণ্য ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে বেলার রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়কারী তন্ময় কুমার সান্যাল মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি প্লাস্টিক দূষণের পরিবেশগত ক্ষতির পাশাপাশি দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন পরিবেশগত সমস্যা নিয়েও আলোচনা করেন।

বক্তারা শিক্ষার্থীদের একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, প্লাস্টিকের ব্যাগের পরিবর্তে কাপড় বা পাটের ব্যাগ, প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে কাচ বা স্টিলের বোতল এবং প্লাস্টিকের কাপ-প্লেটের পরিবর্তে কাগজ, বাঁশ বা মাটির তৈরি সামগ্রী ব্যবহার করলে পরিবেশ দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ৫১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। শেষে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং প্লাস্টিক দূষণমুক্ত, নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : দিনাজপুরে তিন প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন