অস্ট্রিয়াকে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ২-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ ভুলে অসাধারণ এক গোল করলেন মেসি। ৩৮ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে ফাকুন্দো মেদিনার ক্রসে ডামি করেন থিয়াগো আলমাদা। এরপর মেসির বাঁ পায়ের শট অস্ট্রিয়ার জালে! এই গোলে প্রথমার্ধেই ১-০ তে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়লেন মেসি। জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে এককভাবে সিংহাসনে বসলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বিশ্বকাপে মেসির এখন ২৮ ম্যাচে গোলসংখ্যা ১৭টি।
শেষ মুহূর্তে আবার গোল মেসির, দুই গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে অসাধারণ এক গোল করলেন মেসি। আর্জেন্টিনাও এগিয়ে গেল ২-০ ব্যবধানে।
অস্ট্রিয়া বক্সের ভেতরে ছোটখাটো একটা ঝড়ই বয়ে গেল। সেই ঝড়ে শেষ পর্যন্ত মেসির মুখেই ফুটল শেষ হাসি।
প্রথমে আলভারেজের শট অস্ট্রিয়া ডিফেন্ডারের গায়ে লাগল। ফিরতি বলটা পেলেন মেসি। এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তাঁর শট ঠেকান আরেক ডিফেন্ডার। আবারও ফিরতি বলে মেসির শট এবং গোল!
এক গোলে এগিয়ে থাকা কখনোই নিরাপদ কিছু নয়! তাই আক্রমণে ধার বাড়াতে ৬৫ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজ ও থিয়াগো আলমাদাকে তুলে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। তাদের জায়গায় মাঠে নেমেছেন হুলিয়ান আলভারেজ ও নিকো গঞ্জালেস। লিড কি আর বাড়াতে পারবে আলবিসেলেস্তেরা?
মাঠে অস্বস্তি অনুভব করছিলেন আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। ৫৮ মিনিটে তাকে তুলে নিয়ে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিকে মাঠে নামান আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। পিছিয়ে থাকলেও সমান তালে আর্জেন্টিনার পরীক্ষা নিচ্ছে অষ্ট্রিয়াও।
ডালাস স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল চরম নাটকীয়তায় ভরা। পেনাল্টি মিসের হতাশা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি যেভাবে দলকে এগিয়ে নিলেন, তা ছিল বিশ্বমানের।
৯ম মিনিটে ভিএআরের সাহায্যে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মেসি। এটি ছিল ম্যাচে আর্জেন্টিনার জন্য একটি বড় ধাক্কা। পেনাল্টি মিসের পর আর্জেন্টিনা রক্ষণাত্মক খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে। তাদের মিডফিল্ড অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দারুণভাবে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, যার ফলে অস্ট্রিয়ার ‘অব দ্য বল মুভমেন্ট’ কাজে লাগেনি।
অবশেষে ৩৮ মিনিটে গোল উৎসবে মাতে আলবিসেলেস্তেরা। বাঁ প্রান্ত থেকে মেদিনার দুর্দান্ত ক্রস আসে, যা আলমাদা দারুণভাবে ডামি করেন। বলটি আয়ত্তে নিয়ে মেসি তার বাঁ পায়ের শটে অস্ট্রিয়ার গোলকিপার আলেকজান্ডার শ্লাজারকে পরাস্ত করেন।
আর্জেন্টিনা উইং ধরে খেলে অভ্যস্ত না। আর্জেন্টিনার খেলার চিরায়ত স্টাইলও এটা নয়। কিন্তু অস্ট্রিয়া তাদের এভাবে খেলতে বাধ্য করছে। কারণ?
আর্জেন্টিনার চিরায়ত মিডফিল্ড–প্লেতে বাধ সাধছে অস্ট্রিয়ান মিডফিল্ড। স্কালোনির দল সাধারণ মাঠের মাঝ দিয়ে আক্রমণে উঠতে অভ্যস্ত। মাঝপথের সেই খেলাটা আর্জেন্টিনাকে সেভাবে খেলতে দিচ্ছে না অস্ট্রিয়া।
আর্জেন্টিনার একমাত্র গোলটি উইং প্লে থেকেই এসেছে।


