নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়নের কামতা মৌজা এলাকায় মেগা বিল্ডার্সের নামে অবৈধ সাইনবোর্ড, ব্যানার দিয়ে নিরীহ জমি মালিকসহ স্থানীয় বিনোদন স্পট নিঝুম পল্লি রিসোর্টের জমি দখলের চেষ্টায় সন্ত্রাসী মহড়ার পর ফের জমি মালিক কৃষকদলের সভাপতি বাবুল মিয়ার বাড়িতে হামলা করে ভাংচুর, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনা ঘটেছে।
২৩ জুন মঙ্গলবার সকালে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের পলখান এলাকায় এমন ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী বাবুল মিয়া জানান,পলখান এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহীন আকন্দ মেগা বিল্ডার্সের কথিত মালিক মুরাদ চৌধুরীর নির্দেশে স্থানীয় ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা জামাল মোল্লাসহ সন্ত্রাসীদের নিয়ে আমার বাড়ি ঘরে হামলা করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মালামাল লুটে নেয়।এতে বাধা দিলে পিটিয়ে জখম করে ৪ জনকে আহত করে।
একই এলাকার বাসিন্দা জমি মালিক মোহাম্মদ আলী বলেন, পলখান এলাকা ও পাশের উপজেলার কালীগঞ্জে রাথুরা গ্রামের বহিরাগত সন্ত্রাসীরা মেগা বিল্ডার্সের মুরাদ চৌধুরীর টাকা পয়সা নিয়ে এলাকায় তান্ডব চালাচ্ছে।
অপর বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন , পূর্বাচলের পাশেই দাউদপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি মৌজায় মেগা বিল্ডার্সের নামে অবৈধভাবে জমি ক্রয় না করে শান্ত হত্যা মামলার আসামী শাহীন আকন্দ ও অস্ত্রধারী জুয়েল আকন্দ গং জোর করে এলাকায় মাদক সিন্ডিকেটের লোকজন নিয়ে তান্ডব চালায়। স্থানীয় জমি মালিকরা এসব সাইনবোর্ডে বাঁধা দিলে একই এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সংঘবদ্ধ চক্রের গডফাদার খ্যাত ভূমিদস্যু মুরাদ হোসেন চৌধুরী বিগত সরকারের সময়ে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রভাব খাঁটিয়ে কামতা, রাথুরা, হানকুর,মাধবপুর, ভায়াসূতি, তীরমারা,উলুপ এলাকায় আবাসন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করতে স্থানীয় জবরদখলকারী সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটকে ম্যানেজ করে জমি ক্রয় না করেই সাইনবোর্ড বসায়। এরপর থেকে সরকারী খাস ও অর্পিত,রাজউকের জমিকে টার্গেট করে তাদের জবর দখল তান্ডব চলে আসছিলো।
এরআগে ২০ জুন শনিবার একই কায়দায় রাথুরা এলাকায় সন্ত্রাসী নিয়ে মহড়া দিতে এলে স্থানীয় জমি মালিকরা মসজিদে মাইকিং করে একত্র হয়। পরে ছত্রভঙ্গ হয়ে সন্ত্রাসীরা সাইনবোর্ড না দিতে পেরে গ্রামে বাইক যোগে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে থাকে৷ এতে জমি মালিকরা চরম আতণ্কে রয়েছেন।
সূত্রমতে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জমিমালিক শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, আবুল হোসেন, মোহাম্মদ আলী মুন্সি, বাবুল মিয়া, আলী আকবর, গুলজার, ইউসুফ, রুহুল আমিন, মোশারফসহ শতাধিক জমি মালিকদের জমি বেদখল করতে নানাভাবে পায়তারা শুরু করেছেনে সন্ত্রাসী বাহীনি। এ পর্যন্ত নানা দফতরে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা।
এসব বিষয়ে অভিযুক্ত শাহীন আকন্দ বলেন, আমি সাইনবোর্ড দেয়ার দায়িত্ব পেয়েছি তাই দিচ্ছি। জমির কাজ করেই খাই। আমি অন্যায়ে জড়িত নই।
এসব বিষয়ে রূপগঞ্জ থানা পূর্বাচল বাণিজ্যমেলা ক্যাম্প ইনচার্জ উপ পরিদর্শক ফরহাদ হোসেন বলেন, সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখেছি। একটি কোম্পানি ও স্থানীয় জমি মালিকদের মাঝে অবস্থান নিয়ে, সাইনবোর্ড সাঁটানো নিয়ে এ বিরোধ তৈরী হয়।
পড়ুন: বৈশ্বিক তেল বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে চীনের প্রভাব বাড়ছে: সিএনএন
আর/


