বিজ্ঞাপন

সাভারে ভিক্ষুকের জমানো দেড় লাখ টাকা লুটে নিয়ে লাপাত্তা যুবক

টানা তিন বছর পথে পথে ঘুরে মানুষের কাছে চেয়ে (ভিক্ষা করে) জমানো এক বৃদ্ধের দেড় লাখ টাকা লুটে নিয়ে পালিয়েছে এক নেশাগ্রস্ত যুবক। ঘটনার ২৬ দিন পেরিয়ে গেলেও টাকা উদ্ধার এবং অভিযুক্তকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, সাভারের বিভিন্ন এলাকায় তিন বছর ভিক্ষা করে বৃদ্ধ নূর আলম (৬৫) স্থানীয় এক মুদি দোকানদারের কাছে এক লাখ ১৮ হাজার টাকা জমা করেছিলেন। কোরবানির ঈদের তিন দিন পর, গত ৩১ মে তিনি সেই টাকা নিজের কাছে নেন। নিজের কাছে থাকা আরও ৩২ হাজার টাকাসহ তার মোট দেড় লাখ টাকা ছিল। ভাড়া বাসায় টাকা খোয়া যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি সবসময় টাকা নিজের সঙ্গেই রাখতেন। মুদি দোকানি লিটন মিয়া ৩১ মে সকালে জমা রাখা টাকা নূর আলমকে ফেরত দেন। পরে সেই টাকা নিয়ে নূর আলম ভাড়া বাসায় ফেরেন।

অভিযোগ উঠেছে, ওই দিন দুপুরে স্থানীয় এক নেশাগ্রস্ত যুবক শামীম হোসেন খাবার খাওয়ানোর কথা বলে তাকে(বৃদ্ধ) বাসা থেকে বাইরে নিয়ে যায় এবং তার কাছে থাকা দেড় লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।এ ঘটনায় ৬ জুন নূর আলম সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগের ১৯ দিন পেরিয়ে গেলেও টাকা উদ্ধার কিংবা অভিযুক্তকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

ভুক্তভোগী নূর আলম বলেন, “আট বছর আগে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বরিশাল থেকে সাভারে আসি। এখানে এসে সবজির ব্যবসা শুরু করি। পরিবার নিয়ে ভালোই চলছিল। কিন্তু তিন বছর আগে হঠাৎ স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়ি। এরপর আর কাজ করতে পারিনি। ধীরে ধীরে পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে উঠি। একপর্যায়ে স্ত্রী-সন্তানরা আমাকে বাসা থেকে বের করে দেয়। বেঁচে থাকার জন্য ভিক্ষা শুরু করি।”

তিনি বলেন, “প্রতিদিন ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা পরিচিত মুদি দোকানদার লিটনের কাছে জমাতাম। তার কাছে জমানো এক লাখ ১৮ হাজার টাকা এবং নিজের কাছে থাকা ৩২ হাজার টাকাসহ মোট দেড় লাখ টাকা নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। গত ৩১ মে লিটন আমাকে টাকা ফেরত দেন। বাসায় ফেরার পর শামীম নামের এক যুবক আমাকে খাবার খাওয়ানোর কথা বলে বাইরে নিয়ে যায়। হোটেলে যাওয়ার পথে সে আমার কোমরে রাখা দেড় লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর থেকে টাকা উদ্ধারের জন্য পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কিন্তু কেউ টাকা উদ্ধার করে দিতে পারছে না।”

দোকান মালিক লিটন মিয়া জানান, নূর আলম প্রতিদিন ভিক্ষা করে যে টাকা পেতেন, তা তার কাছে জমা রাখতেন। কোরবানির ঈদের পর গ্রামের বাড়ি যাওয়ার কথা বলে তিনি টাকা ফেরত চান। পরে তিনি ৩১শে মে জমা রাখা এক লাখ ১৮ হাজার টাকা ফেরত দেন। এরপর নূর আলম বাসায় চলে যান। পরে তিনি জানতে পারেন, এক যুবক খাবার খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে তার টাকা লুট করে নিয়েছে।

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শামীম পলাতক রয়েছে। সে একজন মাদকাসক্ত। আমরা তার বাবার সন্ধান পেয়েছি। তার বাবা শাহ আলম ১০ দিনের মধ্যে ছেলেকে হাজির করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তা করতে পারেননি। পরে তিনি এক লাখ টাকা পরিশোধের প্রস্তাব দেন। তবে তিনি মাসে তিন হাজার টাকা করে পরিশোধ করতে চেয়েছিলেন, যা ভুক্তভোগী মেনে নেননি।”

তিনি আরও বলেন, “অভিযুক্তকে আটক করতে আমরা পৃথক তিনটি অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী একজন অসহায় মানুষ। তিনি মামলা করতে আগ্রহী নন; বিকল্প উপায়ে টাকা ফেরত পেতে চান। আমরাও সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : তরুণ সমাজকে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে : সাইদুর রহমান বাচ্চু

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন