ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে বড় অঘটনের জন্ম দিলো ইকুয়েডর। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘ই’-এর শেষ ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে এক ঐতিহাসিক বিজয়ের স্বাদ পেল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। এই জয়ের ফলে নকআউট পর্বের লড়াইয়ে জায়গা করে নিলো ইকুয়েডর।
হেরেও গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে নকআউটে উঠল জার্মানি। ৩ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। দ্বিতীয় আইভরি কোস্টের সংগ্রহও সমান ৬ পয়েন্ট। তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে গ্রুপের রানার্স আপ দল হিসেবে আফ্রিকার দলটি প্রথমবারের মতো উঠল বিশ্বকাপের নকআউটে। আর গ্রুপের তৃতীয় সেরা দলগুলোর তালিকায় শ্রেয়তর অবস্থান নিয়ে বিশ্বকাপে শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে উঠল ইকুয়েডর।
ম্যাচের শুরুটা ছিল জার্মানির অনুকূলে। রেফারির বাঁশি বাজার মাত্র ২ মিনিটের মাথায় ফরোয়ার্ড লিরয় সানে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তার বাঁকানো শটটি ছিল নিখুঁত, যা ইকুয়েডরের রক্ষণভাগকে পরাস্ত করতে কোনো সুযোগই রাখেনি। মনে হয়েছিল, এটি হয়তো জার্মানদের জন্য একটি সহজ ম্যাচ হতে চলেছে। কিন্তু ইকুয়েডর দমে যাওয়ার পাত্র নয়।
জার্মানির এই দাপট বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি নিলসন আনহুলো। ৯ মিনিটের মাথায় অসাধারণ দক্ষতায় গোল করে ইকুয়েডরকে ১-১ সমতায় ফেরান তিনি। এটিই এবারের বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের প্রথম গোল, যা তাদের নকআউটে ওঠার পথে আত্মবিশ্বাসকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। এরপর আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের পরেও প্রথমার্ধে দুই দলের কেউই গোলের দেখা পায়নি।
১-১ সমতায় শেষ হওয়া প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও তীব্র লড়াই চলতে থাকে। জার্মানি বারবার আক্রমণে গেলেও ইকুয়েডরের রক্ষণভাগ ছিল অটুট। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত—গঞ্জালো প্লাটার দুর্দান্ত এক গোল ইকুয়েডরকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত জার্মানি গোল শোধ করার শত চেষ্টা করেও ইকুয়েডরের রক্ষণদেয়াল ভাঙতে পারেনি।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

