বিজ্ঞাপন

নতুন উচ্চতায় ঢাকা-চীন সম্পর্ক: আলোচনায় তিন দেশের অর্থনৈতিক করিডর

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ঘোষণা এসেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরে। দুই দেশের জনগণের ‘অভিন্ন ভবিষ্যৎ’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদারের পাশাপাশি চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর উন্নয়নেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেইজিং।

বিজ্ঞাপন

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের শেষ দিনে শুক্রবার সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকের পাশাপাশি দুই নেতা একান্তেও মতবিনিময় করেন।

বৈঠকে সি চিন পিং বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যেকোনো পরিবর্তন এলেও চীন বাংলাদেশের ‘বিশ্বস্ত ভালো বন্ধু’, ‘সুপ্রতিবেশী’ এবং ‘ভালো অংশীদার’ হিসেবেই পাশে থাকবে। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতায় বেইজিংয়ের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করতে একমত হয়েছেন দুই দেশের শীর্ষ নেতা। রাজনৈতিক আস্থা বৃদ্ধি, কৌশলগত যোগাযোগ জোরদার এবং উভয় দেশের মৌলিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

বৈঠকে অঞ্চল ও পথের উদ্যোগ (বিআরআই) বাস্তবায়নের পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংযোগ বাড়াতে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবও তুলে ধরেন সি চিন পিং।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনকে বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত ও মূল্যবান অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে চীনের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। নতুন পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নীত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি অর্থনীতি, বাণিজ্য, যোগাযোগ, কৃষি, প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও পুনর্ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ ‘এক চীন’ নীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ প্রচেষ্টার বিরোধিতা এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৭৫৮ নম্বর প্রস্তাবের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন।

সফর শেষে দুই দেশের পক্ষ থেকে ১৪ দফার যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। এতে উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ চালু, কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে ২+২ সংলাপের সম্ভাবনা যাচাই, তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে সহযোগিতা এবং বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সম্মতির কথা জানানো হয়।

যৌথ ইশতেহারে আরও বলা হয়, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নিতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। পাশাপাশি ব্রিকসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অংশীদার হওয়ার আবেদনের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে চীন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তোলার প্রস্তাব এসেছে। এর লক্ষ্য হবে আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং বহুমাত্রিক পরিবহনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা। তিনি জানান, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন এবং স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা বাড়াতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেইজিং।

রাষ্ট্রীয় সফরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার রাতেই বেইজিং থেকে ঢাকায় ফেরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পড়ুন: ইতালিতে বাসায় ঢুকে বাংলাদেশি পরিবারের ৩ জনকে হত্যা

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন