মালয়েশিয়ায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১০৭ বাংলাদেশি শ্রমিক টানা চার মাস ধরে বেতন না পেয়ে চরম মানবিক সংকট ও না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। প্রবাসী এই কর্মদের অভিযোগ, অ্যারোফোম কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে তাদের বেতন ভাতা পরিশোধ না করায় অনেকেই খাবার, বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচারের আশায় তারা দ্বারস্থ হয়েছেন দেশটির শ্রম বিভাগের।
শুক্রবার (২৬ জুন) পোর্ট ক্লাং শ্রম বিভাগ-এ শ্রমিকদের অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৭০ জন শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন। শুনানির আগে ১০৭ জন শ্রমিক সম্মিলিতভাবে বিশিষ্ট আইনজীবী লতিফা কোয়াকে তাদের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব অর্পণ করে।
শুনানির শুরুতে উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা হলেও নিয়োগকর্তা পক্ষ জানায়, বিষয়টি নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। তারা নতুন করে মধ্যস্থতার তারিখ নির্ধারণের আবেদন জানায়। তবে শ্রমিকদের আইনজীবী বিষয়টি আর বিলম্ব না করে সরাসরি শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তির দাবি জানায়।
শেষ পর্যন্ত মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয় আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শ্রমিকরা। তাদের ভাষ্য, টানা চার মাস বেতনহীন অবস্থায় দিন কাটানোর পরও আরও প্রায় তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে, যা তাদের দুর্ভোগকে আরও গভীর করবে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বেতন না পাওয়ায় অনেকেই ধার-দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। কারও কাছে খাবার কেনার অর্থ নেই, আবার কেউ বাসাভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে উচ্ছেদের শঙ্কায় রয়েছেন। তারা বলছেন, শ্রম দিয়ে উপার্জিত ন্যায্য মজুরি না পাওয়ায় তাদের জীবন এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।
পড়ুন: নতুন উচ্চতায় ঢাকা-চীন সম্পর্ক: আলোচনায় তিন দেশের অর্থনৈতিক করিডর
আর/


