বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফরে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’, সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব পাস

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৭ জুন) সকালের অধিবেশনের শুরুতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। তার ভাষায়, এই সফরের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও সুদৃঢ় হবে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার উল্লেখ করেন, জাতি ত্যাগ ও তিতিক্ষার বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে এবং অতীতে বিভিন্ন সময় এমন সরকারও ছিল যারা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যথাযথ উদ্যোগ নেয়নি।

স্পিকারের মতে, বর্তমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের ফলে দেশবাসীর মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ জনগণও সফরের সফলতা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছে।

প্রস্তাব উত্থাপন করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় গঠিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর দেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তার মতে, সফরের মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও মর্যাদার ভিত্তিতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, সফরকালে চীনের সঙ্গে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনার প্রচলিত সংস্কৃতি পরিহার করে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই সফর বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক নীতির প্রতিফলন—পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন। তিনি মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার, জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং চীনের সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাণিজ্য ভারসাম্য বিষয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে বিরোধী দল সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তিনি মালয়েশিয়া ও চীনকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে উপস্থাপন করা হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার হবে। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনার পাশাপাশি সংসদকে রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রীয় জায়গায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

পড়ুন: নতুন উচ্চতায় ঢাকা-চীন সম্পর্ক: আলোচনায় তিন দেশের অর্থনৈতিক করিডর

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন