টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। আজ শনিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টার রিপোর্ট অনুযায়ী ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এর আগে গত ২৩ জুন তিস্তার পানি একবার বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও দ্রুত তা নেমে যায় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে এবার আবারও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯টায় পানি বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। দুপুর ১২টায় তা ১৭ সেন্টিমিটার নিচে এবং বিকেল ৩টায় ১২ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হয়। পরে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে পাটগ্রামের গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান, সিঙ্গামারী, সিন্দুর্না, হলদিবাড়ী ও ডাউয়াবাড়ী; কালীগঞ্জের ভোটমারী, শৈলমারী ও নোহালী; আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্ধন, কালমাটি, বাহাদুরপাড়া ও পলাশী; এবং সদর উপজেলার ফলিমারী, খুনিয়াগাছ, রাজপুর, তাজপুর ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ইতোমধ্যে কয়েকটি এলাকায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।
আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার বাসিন্দা মামুন বাদশা বলেন, দুই-তিন দিন আগে বাসা থেকে পানি নেমে গিয়েছিল, অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিলাম। আজ আবার শুনছি পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাসায় অল্প অল্প পানি ঢুকতে শুরু করেছে। রাতে হয়তো বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে আর থাকতে পারবো না, নিরাপদ স্থানে যেতে হবে।
খুনিয়াগাছ তিস্তা পাড়ের বাসিন্দা ও মৎস্যচাষী শাহাদাত মিয়া বলেন, পুকুরে অনেক মাছ চাষ করেছি। যদি বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে আমি নিঃস্ব হয়ে যাব। সব মাছ বের হয়ে যাবে। প্রতিবছর যদি তিস্তা এভাবে ক্ষতি করে, তাহলে আমরা ঘুরে দাঁড়াব কীভাবে?
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টা দেশে ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি বা তার ওপরে থাকতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। পানি বৃদ্ধি বা কমে যাওয়ার পর নদীভাঙনের আশঙ্কাও রয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষ করে তিস্তার ডান তীর বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।


