রুদ্ধশ্বাস ও নাটকীয় লড়াই শেষে পেনাল্টি শুটআউটে নেদারল্যান্ডসকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মরক্কো। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিট শেষে ম্যাচ ১-১ গোলে সমতায় থাকায় ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। সেখানে তিনটি শট মিস করে বিদায় নেয় নেদারল্যান্ডস, আর ব্যর্থতা দিয়ে শুরু করেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মরক্কো।
মেক্সিকোর মনতেরেইয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে মরক্কো। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের বিপক্ষে ড্র করার পর দলটি যে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছিল, তার প্রতিফলন দেখা যায় পুরো ম্যাচজুড়েই।
১২০ মিনিটের খেলায় বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল মূলত মরক্কোর দখলে। প্রায় ৭০ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে একের পর এক আক্রমণ গড়ে তোলে তারা। গোলমুখে নেওয়া পাঁচটি শটের মধ্যে চারটিই ছিল বিপজ্জনক। তবে নেদারল্যান্ডসের গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেন একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। এছাড়া দুটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
মরক্কো ৪-২-৩-১ ফরমেশনে খেললেও নেদারল্যান্ডস মাঠে নামে ৫-২-৩ রক্ষণাত্মক কৌশলে। প্রথমার্ধে এই পরিকল্পনা ডাচদের রক্ষণ সামলাতে কিছুটা সহায়তা করলেও মরক্কোর চাপ পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব হয়নি।
১৮তম মিনিটে আশরাফ হাকিমির কর্নার থেকে এল আইনাউইয়ের হেড ফিরিয়ে দেন ভারব্রুগেন। ফিরতি বলে বুয়াদ্দির শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। দুই মিনিট পর হাকিমির শক্তিশালী প্রচেষ্টা পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
প্রথমার্ধের শেষদিকে নেদারল্যান্ডসও সুযোগ তৈরি করে। ৪৪তম মিনিটে ভ্যান ডি ভেনের দূরপাল্লার শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো। ইনজুরি সময়েও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও গোল পায়নি মরক্কো।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আফ্রিকার দলটি। ৫২তম মিনিটে উনাহির পাস থেকে হাকিমির জোরালো শট আবারও ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তবে ম্যাচের ধারার বিপরীতে ৭২তম মিনিটে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। সামারভিলের তৈরি আক্রমণ থেকে কোডি গাকপো গোল করে ডাচদের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
হাল না ছেড়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় মরক্কো। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে তালবির ক্রস থেকে ইসা দিওপের দুর্দান্ত হেডে সমতায় ফেরে দলটি। ১-১ গোলের সমতায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েও আক্রমণের ধার ধরে রাখে মরক্কো। ষষ্ঠ মিনিটে রাহিমির নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন ডাচ গোলরক্ষক ভারব্রুগেন।
শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে গড়ানো ম্যাচে মরক্কোর হয়ে রহিমি, দিওপ ও সাইবারি সফলভাবে গোল করেন। নেদারল্যান্ডসের হয়ে গোল করেন কুপমেইনার্স ও ওয়েগহর্স্ট। তবে ক্লাইভার্টের শট পোস্টে লাগে, টিম্বার্স লক্ষ্যভ্রষ্ট হন এবং সামারভিলের শট রুখে দেন ইয়াসিন বুনো।
ফলে টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় মরক্কো।


