রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সমন্বিতভাবে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) রাজধানীর ১০৮টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সেগুলোর স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে। পাশাপাশি ১০টি অঞ্চলে ২১টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) গঠন করা হয়েছে। এসব দল নিয়মিত পিট, ক্যাচপিট, ড্রেনেজ লাইন এবং জলাবদ্ধতাপ্রবণ স্থান পরিষ্কার করছে। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দ্রুত কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিএনসিসি ১১০ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার সড়ক এবং ১০৫ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়ন করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও ১১৫ কিলোমিটার সড়ক এবং ১২০ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে ৩৬০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন বলেও জানান তিনি। এছাড়া ২৯টি খাল ও একটি রেগুলেটিং পন্ডের সীমানা নির্ধারণের পাশাপাশি অবৈধ দখল ঠেকাতে ১ হাজার ১৮১টি সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে কমলাপুর টিটিপাড়া, ধোলাইখাল ও হাতিরঝিল—এই তিনটি আউটলেটের মাধ্যমে ১০৯ দশমিক ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা হয়। তবে এটি প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়।
এ সমস্যা সমাধানে আরও দুটি নতুন আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে মেট্রো ঢাকা রেজিলেন্স প্রকল্পের আওতায় গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত একটি নতুন বড় আউটলেট (বৃহৎ নর্দমা) নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, শ্যামপুর খালের পানি দ্রুত বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য একটি বক্স কালভার্ট এবং ৮ ফুট ব্যাসের বড় নর্দমা নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডিএসসিসি এলাকায় নিউমার্কেট, নাঈম রোড, গ্রিন রোড, শান্তিনগর, মুগদা মেডিকেল, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, মাজেদ সরদার রোড ও পশ্চিম মালিবাগসহ মোট ৩৩টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা কমাতে ২২টি খাল পরিষ্কার ও পুনঃখনন, চারটি বক্স কালভার্ট পরিষ্কার এবং ওয়ার্ডভিত্তিক নর্দমা পরিষ্কারের কাজ চলছে।
জলাবদ্ধতা দেখা দিলে দ্রুত পানি অপসারণের জন্য ছয়টি পোর্টেবল পাম্প স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় কালুনগর, শ্যামপুর, জিরানী ও মান্ডা—এই চারটি বড় খালের খনন ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্মাণ, খাল পুনরুদ্ধার এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণসহ সব কার্যক্রম সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পড়ুন: নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারিয়ে রাউন্ড অব সিক্সটিনে মরক্কো
আর/


