মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত কথিত ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ ও ‘অসম’ বাণিজ্য চুক্তি (এআরটি) বাতিল, চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা না দেওয়া এবং তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভরতা কমানোর দাবিতে নোয়াখালীর মাইজদীতে এক প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকালে নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় জেলার বিভিন্ন বামপন্থী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা অংশগ্রহণ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিবি জেলা সভাপতি শহীদ উদ্দিন বাবুল।
সভায় বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নিখিল দাস, বাসদ (মাহবুব)-এর সদস্য মহিনউদ্দিন চৌধুরী লিটন, সাম্যবাদী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনজুর আলম মিঠু, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুকান্ত শফি কমল এবং বাসদ (মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য বিটুল তালুকদার।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে সাম্যবাদী আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তারকেশ্বর দেবনাথ নান্টু, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর জেলা সদস্য আনোয়ারুল হক, সিপিবি জেলা সদস্য তপন ঘোষসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে, অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘Agreement on Reciprocal Trade (ART)’ নামে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তাদের দাবি, এই চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
তারা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে আলোচনা কেবল শুল্ক হ্রাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু চুক্তির শর্তাবলি পর্যালোচনা করে তারা বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, চুক্তির শর্তগুলো অত্যন্ত বিস্তৃত ও একতরফা। একটি অনির্বাচিত সরকার কীভাবে এমন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে, যার দায়ভার ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের ওপর বর্তাবে বলেও প্রশ্ন তোলেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। কিন্তু জনগণকে অবহিত না করে ১৫ বছর মেয়াদি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষর করা তাদের নৈতিক ও সাংবিধানিক এখতিয়ারের বাইরে। তাই তারা চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা করা, প্রয়োজনে বাতিল করা এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় কেন্দ্রীয় নেতা মহিনউদ্দিন চৌধুরী লিটন বলেন, এই দাবিতে ইতোমধ্যে ঢাকায় জাতীয় সংসদ অভিমুখে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি সংসদের ৩০০ সদস্যের কাছেও খোলা চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিনিধি সভা ও গণসংযোগ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট দেশব্যাপী আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি আরও জোরদার করবে।
পড়ুন: হরমুজ ইরানের ‘সবচেয়ে বড় শক্তির হাতিয়ার’: গালিবাফ
আর/


