‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ বুধবার (১ জুলাই) উদযাপিত হচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দিনব্যাপী শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হবে। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রস্তুতি নিয়ে মঙ্গলবার (৩০ জুন) উপাচার্যের সভাকক্ষে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। সভায় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ দিবস উদযাপন উপলক্ষে গঠিত বিভিন্ন উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য-সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করে সফলভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
১৯২১ সালের ১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শতবর্ষ পেরিয়ে দেশের শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি, রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি আজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। প্রতিষ্ঠার ১০৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক এবং অ্যালামনাইদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক মানোন্নয়ন এবং উত্তরোত্তর অগ্রযাত্রায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হল ও হোস্টেল থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শোভাযাত্রাসহ স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে সমবেত হবেন। এরপর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও অ্যালামনাই, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেবেন।
সকাল ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এ সময় জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা এবং বিভিন্ন হলের পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই সঙ্গে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। অনুষ্ঠানে সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত, বিশ্ববিদ্যালয়ের থিম সং, রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলসংগীত পরিবেশিত হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও থাকবে।
এরপর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে টিএসসি মিলনায়তনে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ এফ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং বিশিষ্ট অতিথিরা অংশ নেবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, দিবসটি উদযাপনের সুবিধার্থে আজ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সব ক্লাস বন্ধ থাকবে। তবে পূর্বনির্ধারিত সব পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে ঘিরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অ্যালামনাই ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
পড়ুন:মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তায় ফের বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম
দেখুন:১ জুলাই ২০২৪: যে আন্দোলন বদলে দিলো বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ!
ইমি/


