মধ্যপ্রাচ্যের সমৃদ্ধ দেশ কুয়েতে তিন লাখেরও অধিক বাংলাদেশি কর্মী অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে কাজ করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। দেশটিতে বাংলাদেশিদের শ্রমবাজারের ব্যাপক চাহিদা থাকায়, এই সুযোগকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে একটি অসাধু সিন্ডিকেট। এই চক্রটি সাধারণ মানুষকে বিদেশের রঙিন স্বপ্নের প্রলোভন দেখিয়ে ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন দিয়ে একটি অসাধু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে নারী গৃহকর্মী কুয়েতে পাচার করছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও কুয়েত সরকারের মধ্যে নারী গৃহকর্মী পাঠানোর বিষয়ে কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক নেই। যেহেতু কোনো সরকারি চুক্তি নেই, তাই কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কোনো ‘নারী গৃহকর্মী (খাদ্দামা) ভিসা’ সত্যায়ন করার আইনি এখতিয়ার রাখে না। ফলস্বরূপ, বর্তমান পদ্ধতিতে যেসব নারী কুয়েতে আসছেন, তাদের পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়াটিই সম্পূর্ণ অবৈধ।
দালালদের ছড়ানো লোভনীয় বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে অনেক নারী সর্বস্বান্ত হয়ে কুয়েতে পাড়ি জমাচ্ছেন। কিন্তু দেশটিতে পৌঁছানোর পরই তাঁদের জীবন দুঃসহ হয়ে উঠছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বেতন না পাওয়া বা কাজের পরিবেশ না পাওয়ার পাশাপাশি অনেকেই অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি আমেনা খাতুন নামের এক গৃহকর্মীকে ফাহাদ আল আহমেদ এলাকা থেকে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। উল্লেখ্য, গত তিন মাসের ব্যবধানে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ এমন আরও সাতজন ভুক্তভোগী নারী কর্মীকে উদ্ধার করে দেশে ফেরত পাঠাতে সহায়তা করেছে।
বাংলাদেশ দূতাবাসের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেকোনো উপায়ে কুয়েতে গৃহকর্মী হিসেবে নারী প্রেরণের কার্যক্রমটি সম্পূর্ণ বেআইনি। রাষ্ট্র পর্যায়ে সরকারি চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো নারী যেন গৃহকর্মী হিসেবে কুয়েতে আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করেন। মূলত, অসাধু ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনে পা না দেওয়া এবং সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করাই এই করুণ পরিণতি এড়ানোর একমাত্র উপায়।
এদিকে, যারা দালালের মাধ্যমে অবৈধ পন্থায় কুয়েতে এসে আর্থিক, মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, তাদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে কুয়েতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দায়ী অসাধু চক্রটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পড়ুন:চোখের সামনেই পুড়ল সব: পূর্বধলায় আগুনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
দেখুন:যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের চ্যালেঞ্জ? দুই পরাশক্তির সং/ঘাত আসন্ন
ইমি/


