বিজ্ঞাপন

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সাথে দূরত্ব, নতুন পথে সৌদি আরব!

ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের কৌশলগত অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা গেছে। যুদ্ধের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানালেও পরে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একপর্যায়ে উত্তেজনাপূর্ণ মতবিনিময়ও হয় বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

বিজ্ঞাপন

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুতে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ অভিযানে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি চাইলেও রিয়াদ তা নাকচ করে দেয়।

এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক জরুরি ফোনালাপ করেন। তবে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করতে বাধ্য হয় ট্রাম্প প্রশাসন।

ওয়াশিংটনের আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের গবেষক হুসেইন ইবিশের মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সুবিধা দিলে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে—এমন আশঙ্কাই সৌদি নেতৃত্বকে সতর্ক অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে। এ কারণে তারা ওয়াশিংটনের প্রতি আগের মতো আস্থা রাখতে পারেনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সৌদি আরব একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে মধ্যপন্থী কৌশল অনুসরণ করেছে। পাশাপাশি সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী সমাধানের পক্ষেও অবস্থান নেয় দেশটি।

এ সময় আঞ্চলিক কূটনীতিতেও নতুন উদ্যোগ নেয় রিয়াদ। চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো হয়। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় তেহরান ও রিয়াদের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি নেতৃত্ব এখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির চেয়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থনকে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে।

তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে ‘চমৎকার সম্পর্ক’ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অংশীদারদের মতামতকে গুরুত্ব দিলেও শেষ পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, সৌদি আরব এখন এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অগ্রাধিকারের চেয়ে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

পড়ুন: সশস্ত্র বাহিনীর ১৫০ কর্মকর্তাকে পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত সরকারের

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন