আসন্ন কালিয়াকৈর পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে রাজনৈতিক তৎপরতা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে বিএনপির সম্ভাব্য দুই মেয়র প্রার্থী দেওয়ান জসিম উদ্দিন ও মো. সাইজুদ্দিন আহমেদের প্রচারণাকে ঘিরে পৌর এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে রয়েছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর থেকে কালিয়াকৈর বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় দুই নেতার ছবি সংবলিত ফেস্টুন, ব্যানার ও শুভেচ্ছা বার্তা শোভা পাচ্ছে।
মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সড়কের পাশে এবং পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে এসব প্রচারসামগ্রী টানানো হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, প্রচারণাও তত বাড়ছে।
প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উভয় সম্ভাব্য প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিভিন্ন ওয়ার্ড, পাড়া-মহল্লা, হাটবাজার ও চায়ের দোকানে গণসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে। চায়ের দোকানগুলোতে এখন পৌর নির্বাচন সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেওয়ান জসিম উদ্দিন বিভিন্ন সময় মসজিদ, মাদ্রাসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন।
অন্যদিকে মো. সাইজুদ্দিন আহমেদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
কালিয়াকৈর পৌরসভার অন্যতম প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে পানি জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে দুই সম্ভাব্য প্রার্থীর পক্ষ থেকেই বিভিন্ন এলাকায় নালা-নর্দমা পরিষ্কার, ড্রেনের আবর্জনা অপসারণ ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের খানাখন্দ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। এসব কার্যক্রম ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কালিয়াকৈর পৌরসভায় বিএনপির দলীয় মনোনয়নকে ঘিরে আগ্রহ তুঙ্গে রয়েছে। তবে দল এখনো কোনো প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলও এখনো তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। ফলে নির্বাচনের চূড়ান্ত সমীকরণ অনেকটাই নির্ভর করছে দলগুলোর মনোনয়ন ঘোষণার ওপর।
দেওয়ান জসিম উদ্দিন বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে কালিয়াকৈর পৌরবাসীর সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। সামাজিক, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছি। বিএনপি যাকে মনোনয়ন দেবে, আমরা তার পক্ষেই কাজ করব। তবে দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে জলাবদ্ধতা নিরসন, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন পৌরসভা এবং উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।”
মো. সাইজুদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমি সবসময় শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছি। পৌরবাসীর আস্থা ও ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা ও আস্থা রয়েছে। দল যদি আমাকে দায়িত্ব দেয়, তাহলে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব পৌরসভা গড়ে তুলতে কাজ করব।
নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধান স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পৌর প্রশাসন নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”
স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, তারা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চান যিনি নির্বাচিত হওয়ার পর জলাবদ্ধতা, সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার দীর্ঘদিনের সমস্যার কার্যকর সমাধান করবেন। একই সঙ্গে তারা একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক পৌর নির্বাচন প্রত্যাশা করছেন।
পড়ুন : ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহ: একমাসে তিন দেশে মৃত্যু ৩ হাজার ৭০০
সা/


