টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের উফুল্কী গ্রামের অসহায় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি মো. আজম আলী (৪৫) দীর্ঘদিন ধরে শিকলবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। বাবা-মা মারা গেছেন অনেক আগেই, স্ত্রীও অসুস্থ স্বামীকে ছেড়ে চলে গেছেন। চরম দারিদ্র্য ও চিকিৎসার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। স্থানীয়দের উদ্যোগে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহে প্রয়োজন আরও আর্থিক সহযোগিতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামুর্কী ইউনিয়নের উফুল্কী গ্রামের বাসিন্দা আজম আলী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। তার বাবা আব্দুর রহমান ও মা মহরা খাতুন অনেক আগেই মারা গেছেন। নিজের কোনো জমিজমা না থাকায় সরকারি ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত একটি ঘরেই ছিল তার ছোট্ট সংসার।
কিন্তু হঠাৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে ভেঙে যায় সেই সংসারও। অসুস্থ স্বামীকে রেখে চলে যান তার স্ত্রী। বর্তমানে তার দেখাশোনা করার মতো আপন বলতে রয়েছেন শুধু একজন বোন। তবে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার পক্ষেও আজম আলীর চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।
পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, অস্বাভাবিক আচরণ এবং নিজের ও অন্যের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাধ্য হয়েই তাকে শিকলবন্দি করে রাখা হয়েছে। এতে অত্যন্ত মানবেতর জীবন কাটছে তার।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া প্রত্যয়নপত্রেও আজম আলীর মানসিক ভারসাম্যহীনতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, তাকে দ্রুত পাবনা মানসিক হাসপাতাল অথবা সরকারি কোনো বিশেষায়িত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসী নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী চাঁদা তুলে কিছু অর্থ সংগ্রহ করেছেন, যাতে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করানো যায়। তবে ভর্তি, যাতায়াত, ওষুধ এবং পরবর্তী চিকিৎসার ব্যয় বহনের জন্য আরও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।
জামুর্কী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডিএ মতিন বলেন, “আজম আলীর চিকিৎসার জন্য যদি কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়তো তিনি আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন। মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”
এদিকে, আজম আলীর চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন মানবিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা। তাদের আশা, সবার সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন আজম আলী।
পড়ুন : নেত্রকোনা সীমান্তে পাওয়া মর্টারশেল ধ্বংসের প্রক্রিয়াধীন


