মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ১০ জনকে পুশইন করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ বিষয়ে ৫২ বিজিবির কাছ থেকে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে দিনভর নানা নাটকীয়তার পর সকালে পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের রাতে অন্য একটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ভারতে পুশব্যাক করা হয়েছে বলে দাবি করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আতাউর রহমান।
কোন পক্রিয়ায় তাঁদেরকে ভারতে পুশব্যাক করা হল এ বিষয়ে জানতে চাইলে তার কোন সদুওর দেননি তিনি, এমনকি ভারতে ফেরত পাঠানোর ছবি ও ভিডিও তার কাছে চাইলে তিনি তাও দেননি। এদিকে পুশইনের তথ্য চাইতে গিয়ে তার কাছে হেনস্থার স্বীকার হন এক স্থানীয় সাংবাদিক। এর আগেও বেশ কয়েকবার সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে ৫২ বিজিবির এই অধিনায়কের বিরুদ্ধে। তাকে তথ্যের জন্য কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেন না তবে তার দপ্তর থেকে দেয়া তথ্য অনুযায়ী সংবাদ প্রচার না হলে তিনি বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেন নিউজ ফেলে দেয়ার জন্য।
স্থানীয় বাসিন্দাসূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে প্রথমে ঐ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হালিমের সাথে কথা হয় পুশইন হওয়া দশ জনের এই দলটির। এদের মধ্যে দুইজন পুরুষ, সাতজন নারী ও একটি শিশু ছিল। তাঁরা হলেন রিহাদুল মোল্লা (৫৫), ফরিদা বেগম (৪০), লাবিবা আক্তার (৮), সুবা আক্তার (৩২), দিলারা বেগম (৩৮), রিতা বেগম (৪০), রিয়া বেগম (২৫), সাব্বির শেখ (১৯), লাইলি খাতুন (২৮) ও সালমা খাতুন (২৭)। স্থানীয়রা খবর দিলে বিজিবি সেখানে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর বাংলাদেশে তাঁদের নাগরিকত্বের প্রমাণ ও তাদের আত্বীয়-স্বজনের সাথে কথা বলে।
পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা সাংবাদিকদের বলেন, তাদের নয়জনের বাড়ি বাংলাদেশের নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলায়, আর সালমা খাতুনের বাড়ি সাতক্ষীরায়, বিভিন্ন সময় যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তারা ভারতে প্রবেশ করেন, ভারতের গুজরাট সহ বিভিন্ন শহরে তারা কাজও করতেন। কিন্তু মুসলিম হওয়ায় হঠাৎ পুলিশ তাঁদের আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে, বিএসএফ তাদেরকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। দিনভর আব্দুল হালিমের বাড়িতেই বিজিবি তাদেরকে আটকে রাখে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। এসময় নারীরা কান্নাকাটি করে ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানিয়ে বলেন, বিজিবি আমাদেরকে বাসে তুলে দেবার কথা বলে এখানে নিয়ে এসেছে, কিন্তু কোথায় নিয়ে যাচ্ছে আমরা জানি না। আমরা ভয়ের মধ্যে আছি, আপনারা চলে গেলেই হয়তো আমাদের মেরে ফেলবে।
এর আগে রাতে সিএনজি অটোরিকশায় করে বিজিবি তাদেরকে নিয়ে বের হলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ঐ সময় পুশইনের বিষয়টি স্বীকার করে তাঁদের জুড়ী থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানায় বিজিবি। এসময় পুশইনের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে কোন তথ্য দেয়নি তারা, এমনকি ভিডিও ধারন করতেও বাঁধা দেয় বিজিবি। পরে বিজিবি দপ্তর থেকে দাবি করা হয় রাতেই তাদেরকে অন্য সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
হেনস্থার স্বীকার হওয়া স্থানীয় সাংবাদিক খোর্শেদ আলম জানান, স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরে জুড়ী সীমান্তে পুশইনের তথ্য দিয়ে তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন, সেই পোস্ট তাকে ডিলেট করতে বলেন বিজিবির সিইও মো. আতাউর রহমান। পরে তার বাড়িতে গিয়ে বিজিবি সদস্যরা তাকে না পেয়ে তার ছোট ভাই তৌহিদ আলমকে আটক করে বিজিবির লাঠিটিলা ক্যাম্পে নিয়ে যান।
এসব বিষয়ে জানতে ৫২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আতাউর রহমান এর সাথে কথা বলে কোন সদুওর পাওয়া যায়নি, এসব অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
পড়ুন : ৭১-এর দুঃসহ স্মৃতি: নেত্রকোনায় বৃদ্ধের শরীর থেকে গুলি অপসারণ


