বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের সভ্যতা নেই, ইতিহাস নেই, সম্মানও নেই: ইরান

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জানাজায় উপস্থিত ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে ‘এক হামলায়’ হত্যা করা সম্ভব ছিল বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া মন্তব্যের কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সভ্যতা, ইতিহাস ও সম্মান নেই’ বলেও মন্তব্য করেছে ইরান।

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, রোববার (৫ জুলাই) আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করা হয়। উল্লেখ্য, ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র তাদের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছে।

ইরানি দূতাবাসের পোস্টে বলা হয়, মানুষকে হত্যা করা সম্ভব হলেও আদর্শকে হত্যা করা যায় না। পোস্টে লেখা হয়, ‘আপনারা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছেন। কিন্তু বাস্তবে একটি সুগন্ধির বোতল ভেঙেছেন, যার সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘আপনারা এসব বুঝবেন না। কারণ আপনাদের সভ্যতা নেই, ইতিহাস নেই, সম্মানও নেই।’

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরই ইরানের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া আসে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আলি খামেনির জানাজায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি তাকে বিস্মিত করেছে।

ট্রাম্পের ভাষ্য, ‘আমি ভেবেছিলাম মানুষ খামেনিকে ঘৃণা করে। হয়তো এসব কান্না নকল।’ এরপর তিনি দাবি করেন, চাইলে জানাজায় উপস্থিত ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে যুক্তরাষ্ট্র ‘এক হামলাতেই’ হত্যা করতে পারত।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘ওরা সবাই সেখানে ছিল। এক হামলাতেই আমরা তাদের সবাইকে শেষ করে দিতে পারতাম। কিন্তু আমরা তা করব না। কারণ তাহলে আলোচনার জন্য আর কাউকে পাওয়া যেত না।’

এদিকে রোববার তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তার উত্তরসূরি হিসেবে আলোচিত মোজতাবা খামেনি ছাড়া তার অপর তিন ছেলে এবং ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ আলি খামেনি নিহত হন। বর্তমানে তেহরানের মোসাল্লায় তার মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা, কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

তেহরান, কোম, নাজাফ ও কারবালায় কয়েক দিনের শোকযাত্রা শেষে আগামী ৯ জুলাই আলি খামেনিকে দাফন করা হবে।

পড়ুন: মেক্সিকোকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টারে ইংল্যান্ড

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন