আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে রেফারিং ছিল অন্যায্য ও পক্ষপাতদুষ্ট—এমন অভিযোগ তুলেছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। বুধবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, এমন ঘটনার পর তারা নীরব থাকতে পারে না।
আটলান্টায় মঙ্গলবার আর্জেন্টিনা-মিশরের অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় আফ্রিকার দলটি।
ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলের লিড ধরে রেখেছিল মিসর। তবে শেষ ১৪ মিনিটে টানা তিন গোল করে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় আর্জেন্টিনা। পরাজয়ের পর ম্যাচের রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান এবং দলের কয়েকজন ফুটবলার।
ইএফএর বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় দলের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা এমন কোনো বিষয় নয়, যাকে অবহেলা করা যায় বা গুরুত্বহীন হিসেবে দেখা যায়। এই দায়িত্ব তারা দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে পালন করে যাচ্ছে।
ম্যাচের ৫৮ মিনিটে মিসরের একটি গোল ভিএআর পর্যালোচনার পর বাতিল করা হয়। সিদ্ধান্তে বলা হয়, গোল হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করেছিলেন মিসরের মিডফিল্ডার মারওয়ান আত্তিয়া।
এ ঘটনাকে সামনে রেখে ইএফএর দাবি, রেফারি ভিএআর প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং এর ফলেই দলটিকে পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ম্যাচের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সিদ্ধান্তগুলো সরাসরি ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে এবং ধারাবাহিকতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ম্যাচের ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিম এবং ৬৭ মিনিটে মোস্তফা জিকো গোল করে মিসরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। পরে ৭৯ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও ৮৩ মিনিটে লিওনেল মেসির গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ের (৯০+২) মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের গোলেই জয় নিশ্চিত করে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের পর দুই হাত আড়াআড়ি করে ইংরেজি ‘এক্স’ অক্ষরের মতো ইশারা করেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান। ম্যাচ শেষে তিনি আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির প্রতি পক্ষপাত দেখানোর অভিযোগ তুলে বলেন, ‘হয়তো তারা চেয়েছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি প্রতিযোগিতায় থাকুক।’
ইএফএ জানিয়েছে, বেশ কয়েকজন ফুটবল বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষক তাদের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। পাশাপাশি ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে ম্যাচ পরিচালনায় সততা, স্বচ্ছতা ও নিয়মানুবর্তিতা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
বিবৃতির শেষাংশে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকদের হতাশার কথাও তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, মিসরের জার্সি গায়ে মাঠে নামা প্রতিটি খেলোয়াড় এবং দলের প্রতিটি সমর্থক ন্যায্য বিচার, সম্মান ও খেলার নিয়মের সমান প্রয়োগ পাওয়ার অধিকার রাখেন।


