বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মনোনয়ন চূড়ান্ত করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একটি গণমাধ্যমকে দলটির এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের মহাসচিবকেই রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দল মনোনীত করেছে। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান কর্তৃক মির্জা ফখরুলের নাম প্রায় নিশ্চিতভাবেই চূড়ান্ত করা হয়েছে।
তবে একাধিক সূত্র বলছে, এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। সব তথ্য-উপাত্ত নিয়ে তাকে প্রস্তুত থাকতেও বলা হয়েছে। বাকি শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। আর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট লাগবে ১৭৫টি। কাজেই বিএনপি কাউকে মনোনয়ন দিলে সেই ব্যক্তিই যে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হবেন তা আর অংক কষে বের করার প্রয়োজন নাই।
বিএনপির আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রায় সবাই জানিয়েছেন যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি একান্তই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর নির্ভর করছে। তবে তার পছন্দের বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। যদিও প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একজন নেতা নিশ্চিত করেছেন যে ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
এদিকে, রোববার (৯ আগস্ট) সকালে বিএনপি নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সদর দপ্তরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই কাগজপত্র সংগ্রহ করেন।
১৯৯১ সালে সবশেষ রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। ৩৫ বছর পর আগে সেই নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচনে লড়েছিলেন মির্জা ফখরুল। যিনি এবার রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রথম পছন্দ। ২০ আগস্ট যে ভোট হবে তার কেন্দ্রে থাকবেন তিনিই।
যখন আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার মনে হয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কথার লড়াইয়ে পেরে উঠছেন না তখনই তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেয়া হয়েছে। একবার দুবার নয় শেখ হাসিনার শাসনামলে ১১ বার জেলে গিয়েছিলেন মির্জা আলমগীর। সবমিলিয়ে জেলে ছিলেন সাড়ে ৩ বছর। শেষে এমন অবস্থা হয় নাশকতার মামলায় মানেই হাসতে হাসতে মির্জা ফখরুলের জেল যাত্রা।


